বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩, সকাল ১০:১০
বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩,সকাল ১০:১০

৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত সেই ১০ জেলে

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)

২০ ডিসেম্বর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৫:০০ pm

পাঁচ দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে। দস্যুদের কবলে থাকা জেলেদের ওপর চলছে নির্যাতন। দাবিকৃত মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে দস্যুরা। মুক্তিপণের টাকা শোধ করে দ্রুতি ছাড়িয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন ওই জেলেরা।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন দস্যুদের আস্তানায় জিম্মি থাকা জেলে সোহেল মল্লিকের মহাজন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন।

সোহেল বাগেরহাট সদরের ডেমা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র হাবিব মল্লিকের ছেলে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের বেড়ির খাল ও হরমল খালে জেলেবহরে হানা দিয়ে সশস্ত্র দস্যু দলটি ১০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জেলে প্রতি ১০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দস্যুরা। অপহৃত জেলেদের বাড়ি বাগেরহাট সদরের ডেমা, মোংলা ও রামপাল এলাকায়।

এদিকে, দস্যুদের কবল থেকে পাঁচ দিনেও উদ্ধার না হওয়ায় জেলেদের পরিবারে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা। কান্নার রোল পড়েছে অপহৃতদের পরিবারে। সন্তানকে ফেরত পেলে আর কোনোদিন সুন্দরবনে পাঠাবেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন জানান, সকালে (মঙ্গলবার) দস্যুদের আস্তানা থেকে তার নৌকার জেলে সোহেল ফোন করে জানিয়েছেন, দস্যুরা তাদের ওপর নির্যাতন করছে। মুক্তিপণের টাকা না পেলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সবাই কান্নাকাটি করছেন বলে জানিয়েছে সোহেল।

মৎস্য ব্যবসায়ী ছগির আরো জানান, প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়ীদের কথা হয়েছে। কোনো প্রকার টাকা না দিতে নিষেধ করা হয়েছে তাদের। যে কারণে ব্যবসায়ীরা দস্যুদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।

অপহৃত জেলে সোহেল মল্লিকের বাবা হাবিব মল্লিক ও মা ঝর্ণা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুঠোফোনে বলেন, ‘ছেলেডারে ডাকাতি ধইরে নিয়ে গেইছে। ছাড়ায়ে আনতি মেলা টাকা চাচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ এতো টাকা কোয়ানে পাবো। আপনারা আমাগো ছেলেডারে ফেরত আইনে দেন। একবার আনতি পারলি আর কোনো দিন ওরে সুন্দরবনে কাড়া (কাঁকড়া) ধরতি পাঠাবো না।’

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা সদর দপ্তরের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মামুনুর রহমান বলেন, এই মুহুর্তে সব তথ্য বলা যাবে না। তবে, শিগগিরই একটা ভালো খবর দিতে পারবো। আমরা অনেকটা অগ্রসর হয়েছি। অভিযান অব্যাহত আছে।


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/charidik/public_html/wp-content/themes/jnews/class/Module/Block/Block_9_View.php on line 13

Related Posts

৫ দিনেও উদ্ধার হয়নি অপহৃত সেই ১০ জেলে

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)

২০ ডিসেম্বর, ২০২২,

৫:০০ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

পাঁচ দিনেও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে অপহৃত ১০ জেলে। দস্যুদের কবলে থাকা জেলেদের ওপর চলছে নির্যাতন। দাবিকৃত মুক্তিপণ না পেলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিচ্ছে দস্যুরা। মুক্তিপণের টাকা শোধ করে দ্রুতি ছাড়িয়ে নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন ওই জেলেরা।

মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন দস্যুদের আস্তানায় জিম্মি থাকা জেলে সোহেল মল্লিকের মহাজন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন।

সোহেল বাগেরহাট সদরের ডেমা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র হাবিব মল্লিকের ছেলে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের বেড়ির খাল ও হরমল খালে জেলেবহরে হানা দিয়ে সশস্ত্র দস্যু দলটি ১০ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জেলে প্রতি ১০ হাজার টাকা করে মোট এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দস্যুরা। অপহৃত জেলেদের বাড়ি বাগেরহাট সদরের ডেমা, মোংলা ও রামপাল এলাকায়।

এদিকে, দস্যুদের কবল থেকে পাঁচ দিনেও উদ্ধার না হওয়ায় জেলেদের পরিবারে দেখা দিয়েছে উৎকণ্ঠা। কান্নার রোল পড়েছে অপহৃতদের পরিবারে। সন্তানকে ফেরত পেলে আর কোনোদিন সুন্দরবনে পাঠাবেন না বলেও জানিয়েছেন তারা।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. ছগির আকন জানান, সকালে (মঙ্গলবার) দস্যুদের আস্তানা থেকে তার নৌকার জেলে সোহেল ফোন করে জানিয়েছেন, দস্যুরা তাদের ওপর নির্যাতন করছে। মুক্তিপণের টাকা না পেলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সবাই কান্নাকাটি করছেন বলে জানিয়েছে সোহেল।

মৎস্য ব্যবসায়ী ছগির আরো জানান, প্রশাসনের লোকদের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়ীদের কথা হয়েছে। কোনো প্রকার টাকা না দিতে নিষেধ করা হয়েছে তাদের। যে কারণে ব্যবসায়ীরা দস্যুদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি।

অপহৃত জেলে সোহেল মল্লিকের বাবা হাবিব মল্লিক ও মা ঝর্ণা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুঠোফোনে বলেন, ‘ছেলেডারে ডাকাতি ধইরে নিয়ে গেইছে। ছাড়ায়ে আনতি মেলা টাকা চাচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ এতো টাকা কোয়ানে পাবো। আপনারা আমাগো ছেলেডারে ফেরত আইনে দেন। একবার আনতি পারলি আর কোনো দিন ওরে সুন্দরবনে কাড়া (কাঁকড়া) ধরতি পাঠাবো না।’

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা সদর দপ্তরের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মামুনুর রহমান বলেন, এই মুহুর্তে সব তথ্য বলা যাবে না। তবে, শিগগিরই একটা ভালো খবর দিতে পারবো। আমরা অনেকটা অগ্রসর হয়েছি। অভিযান অব্যাহত আছে।


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/charidik/public_html/wp-content/themes/jnews/class/Module/Block/Block_9_View.php on line 13

Related Posts