সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, রাত ৩:৫০
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪,রাত ৩:৫০

ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষে সমৃদ্ধি, বাড়ছে আগ্রহ

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

১১ ডিসেম্বর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৮:৩৩ pm

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীতে ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ করে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন মৎস্য চাষিরা। লাভজনক হওয়ায় এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বেকার যুবকরা। প্রথম থেকে কয়েকজন মৎস্য চাষি করলেও এখন ভাসমান এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বুক চিরে আঁকাবাঁকা হয়ে জড়িয়ে রয়েছে মধুমতি নদী। নদীর পশ্চিম পাড়ে নড়াইল ও মাগুরা জেলা আর পূর্ব পাড়ে ফরিদপুর জেলা। এক পাশে ভাঙে অপর পাশে চর পড়ে। উপজেলার টগরবন্দ, বুড়াইচ, গোপালপুর এলাকায় গত কয়েক বছরের ভাঙনে অনেকে বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া অনেকেই আবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে টিটা গ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন মিয়া নামে এক মৎস্যচাষি ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন। তার খাচায় মাছ চাষ মধুমতি তীরে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে এখানকার স্থানীয় অনেক মৎস্যজীবী ও বেকার যুবকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এ ব্যাপারে মৎস্যচাষি ইকবাল হোসেন মিয়া জানান, বাঁশ ও জাল দিয়ে মাছ চাষের খাঁচা তৈরি করে পানির ওপর ভাসিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন হয় প্লাসটিকের খালি ড্রাম। এতে তেলাপিয়া, পাঙাশ, কই, শিং, মাগুর, গ্রাসকার্প, রুই, চিংড়ি ও সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা যায়। পুকুর বা বিলের মাছ থেকে এই মিঠা পানির মাছে স্বাদ বেশি হওয়াতে বাজারে এসব মাছের চাহিদাও ভাল। বর্তমানে তার মধুমতি নদীতে ২০টি খাঁচা রয়েছে। তিনি খুব তাড়াতাড়ি খাঁচার সংখ্যা দিগুন করবেন বলে জানান।

গোপালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বেকার যুবক ফয়সাল মিয়া বলেন, ‘মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে দেখে আমি নিজের উদ্যোগে ১০টি খাঁচা দিয়ে এক বছর ধরে মাছ চাষ শুরু করেছি। এ পেশায় খরচ কম মুনাফা বেশি ১০টি খাঁচায় আমার সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। গত বছর আমি মাছ বিক্রি করেছি প্রায় দুই লাখ টাকার মত। মাছের স্বাদ ভালো হওয়াতে নিজেরাই খাঁচা থেকে প্রয়োজন মতো মাছ ধরে খাচ্ছি। সারা বছর বাজার থেকে তেমন মাছ কিনতে হয়নি।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুমন কুমার জানান, উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ভাঙন কবলিত এলাকা। নদীতে অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখানকার চরাঞ্চলের মানুষ বেকারত্ব হয়ে পড়েছে। ইকবাল ও ফয়সালকে দেখে মধুমতি নদীর বাঁওড়ে ভাসমান মাছ চাষে যুবকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কারণ, অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় ভাসমান মাছ চাষে আগ্রহী তারা।

তাছাড়া যুবকরা মধুমতি সংলগ্ন বাঁওড়েও ছোট আকারে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করে বছরে দুইবার গড়ে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারছেন। নদীতে ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে মৎস্যজীবী ও বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে সকলকে আগ্রহী করতে হবে। তাহলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পথ আরো তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী এই কর্মকর্তা।


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/charidik/public_html/wp-content/themes/jnews/class/Module/Block/Block_9_View.php on line 13

Related Posts

ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষে সমৃদ্ধি, বাড়ছে আগ্রহ

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

১১ ডিসেম্বর, ২০২২,

৮:৩৩ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীতে ভাসমান পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ করে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন মৎস্য চাষিরা। লাভজনক হওয়ায় এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বেকার যুবকরা। প্রথম থেকে কয়েকজন মৎস্য চাষি করলেও এখন ভাসমান এই পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বুক চিরে আঁকাবাঁকা হয়ে জড়িয়ে রয়েছে মধুমতি নদী। নদীর পশ্চিম পাড়ে নড়াইল ও মাগুরা জেলা আর পূর্ব পাড়ে ফরিদপুর জেলা। এক পাশে ভাঙে অপর পাশে চর পড়ে। উপজেলার টগরবন্দ, বুড়াইচ, গোপালপুর এলাকায় গত কয়েক বছরের ভাঙনে অনেকে বাড়িঘর ভেঙে যাওয়া অনেকেই আবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে টিটা গ্রামের দুর্গম চরাঞ্চলের বাসিন্দা ইকবাল হোসেন মিয়া নামে এক মৎস্যচাষি ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন। তার খাচায় মাছ চাষ মধুমতি তীরে এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে এখানকার স্থানীয় অনেক মৎস্যজীবী ও বেকার যুবকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এ ব্যাপারে মৎস্যচাষি ইকবাল হোসেন মিয়া জানান, বাঁশ ও জাল দিয়ে মাছ চাষের খাঁচা তৈরি করে পানির ওপর ভাসিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজন হয় প্লাসটিকের খালি ড্রাম। এতে তেলাপিয়া, পাঙাশ, কই, শিং, মাগুর, গ্রাসকার্প, রুই, চিংড়ি ও সরপুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা যায়। পুকুর বা বিলের মাছ থেকে এই মিঠা পানির মাছে স্বাদ বেশি হওয়াতে বাজারে এসব মাছের চাহিদাও ভাল। বর্তমানে তার মধুমতি নদীতে ২০টি খাঁচা রয়েছে। তিনি খুব তাড়াতাড়ি খাঁচার সংখ্যা দিগুন করবেন বলে জানান।

গোপালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বেকার যুবক ফয়সাল মিয়া বলেন, ‘মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে দেখে আমি নিজের উদ্যোগে ১০টি খাঁচা দিয়ে এক বছর ধরে মাছ চাষ শুরু করেছি। এ পেশায় খরচ কম মুনাফা বেশি ১০টি খাঁচায় আমার সর্বমোট খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। গত বছর আমি মাছ বিক্রি করেছি প্রায় দুই লাখ টাকার মত। মাছের স্বাদ ভালো হওয়াতে নিজেরাই খাঁচা থেকে প্রয়োজন মতো মাছ ধরে খাচ্ছি। সারা বছর বাজার থেকে তেমন মাছ কিনতে হয়নি।’

আলফাডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুমন কুমার জানান, উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ভাঙন কবলিত এলাকা। নদীতে অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যাওয়ায় এখানকার চরাঞ্চলের মানুষ বেকারত্ব হয়ে পড়েছে। ইকবাল ও ফয়সালকে দেখে মধুমতি নদীর বাঁওড়ে ভাসমান মাছ চাষে যুবকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। কারণ, অল্প খরচে অধিক লাভের আশায় ভাসমান মাছ চাষে আগ্রহী তারা।

তাছাড়া যুবকরা মধুমতি সংলগ্ন বাঁওড়েও ছোট আকারে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ করে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করে বছরে দুইবার গড়ে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারছেন। নদীতে ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে মৎস্যজীবী ও বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে সকলকে আগ্রহী করতে হবে। তাহলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পথ আরো তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদী এই কর্মকর্তা।


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/charidik/public_html/wp-content/themes/jnews/class/Module/Block/Block_9_View.php on line 13

Related Posts