সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, রাত ৪:২১
সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪,রাত ৪:২১

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর মামলা!

আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) 

৮ ডিসেম্বর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

১০:৪৯ pm

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইনে মাসুম বিল্লাহ নামে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য একের পর এক সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ পক্ষ-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি পালনে ব্যাহত হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে একই বিদ্যালযের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন ১৯৮০ এর ১২ এবং ১৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনের সঙ্গে জেএসসি পরিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহর পরিবারের মধ্যে পূর্ব শক্রুতার কারণে বিবাদ চলে আসছে। এরই জেরে গত ২৯ নভেম্বর আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে মাসুম বিল্লাহকে অকারণে বেতের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে শিক্ষক রুহুল আমিন। এক পর্যায়ে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি ওই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটির সদস্য জলিল মাতুব্বরকে জানায়। মাসুম বিল্লাহকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে তিনি শিক্ষক রুহুল আমিনকে অনুরোধ করেন। তারপরেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় নিরুপায় হয়ে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ বিষয়ে আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটির সদস্য জলিল মাতুব্বর জানান, শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এখন উল্টো তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিয়ে নানান কর্মসূচি পালনসহ ফন্দি করছেন।

শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলতঃ ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়েই আসে না। তাই তাকে বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর মামলায় যেদিন ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেদিন বিদ্যালয়ে এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। আর শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষা কেন্দ্রেই আসেনি। বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার কথা শুনেই আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা ও নানাবিদ কর্মকান্ড ঘটানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ২৯ নভেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটির সদস্য জলিল মাতুব্বর ওই শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করেন। আমি পরীক্ষা কেন্দ্র দায়িত্ব পালন করায় বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে রিজাইন দিতে বলেন এবং লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে তিনি আমার নামে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করছেন।’

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, এভাবে যদি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে বিবাদ চলতে থাকে তাহলে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বলতে আর কিছুই থাকবে না। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ে পাঠদান নিয়েও তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন।

আঠারোগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী একটা বখাটে। গত ২০ অক্টোবর বিদ্যালয়ে ক্লাশ চলাকালীন সময় এক শিক্ষকের সাথে দুর্ব্যবহার করে ক্লাস থেকে চলে গিয়ে অদ্যবদি বিদ্যালয়ে আসেনি। বিষয়টি তার অভিবাবকদের জানানো হলেও তারা কোন সাড়া দেননি। পরে ২৩ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়া হয়েছে বলে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু টিসি না নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যকে সাথে নিয়ে সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনকে হয়রানি করতে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।’


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/charidik/public_html/wp-content/themes/jnews/class/Module/Block/Block_9_View.php on line 13

Related Posts

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর মামলা!

আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) 

৮ ডিসেম্বর, ২০২২,

১০:৪৯ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইনে মাসুম বিল্লাহ নামে ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য একের পর এক সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ পক্ষ-বিপক্ষে নানা কর্মসূচি পালনে ব্যাহত হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

জানা গেছে, গত ৩০ নভেম্বর ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে একই বিদ্যালযের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন ১৯৮০ এর ১২ এবং ১৩ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনের সঙ্গে জেএসসি পরিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহর পরিবারের মধ্যে পূর্ব শক্রুতার কারণে বিবাদ চলে আসছে। এরই জেরে গত ২৯ নভেম্বর আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষার হলে মাসুম বিল্লাহকে অকারণে বেতের লাঠি দিয়ে বেদম মারধর করে শিক্ষক রুহুল আমিন। এক পর্যায়ে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি ওই বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরে বিদ্যালয় পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটির সদস্য জলিল মাতুব্বরকে জানায়। মাসুম বিল্লাহকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে তিনি শিক্ষক রুহুল আমিনকে অনুরোধ করেন। তারপরেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় নিরুপায় হয়ে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এ বিষয়ে আঠারগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটির সদস্য জলিল মাতুব্বর জানান, শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে আমি বিদ্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিন আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এখন উল্টো তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দিয়ে নানান কর্মসূচি পালনসহ ফন্দি করছেন।

শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। মূলতঃ ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয়েই আসে না। তাই তাকে বিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর মামলায় যেদিন ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেদিন বিদ্যালয়ে এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। আর শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ ২৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পরীক্ষা কেন্দ্রেই আসেনি। বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়ার কথা শুনেই আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা ও নানাবিদ কর্মকান্ড ঘটানো হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত ২৯ নভেম্বর বিদ্যালয় পরিচালনা (ম্যানেজিং) কমিটির সদস্য জলিল মাতুব্বর ওই শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহর পরীক্ষা নেওয়ার জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করেন। আমি পরীক্ষা কেন্দ্র দায়িত্ব পালন করায় বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে রিজাইন দিতে বলেন এবং লাঞ্ছিত করেন। এ সময় তিনি আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই শিক্ষার্থীকে দিয়ে তিনি আমার নামে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানি করছেন।’

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, এভাবে যদি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে বিবাদ চলতে থাকে তাহলে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বলতে আর কিছুই থাকবে না। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ে পাঠদান নিয়েও তারা শঙ্কা প্রকাশ করেন।

আঠারোগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী একটা বখাটে। গত ২০ অক্টোবর বিদ্যালয়ে ক্লাশ চলাকালীন সময় এক শিক্ষকের সাথে দুর্ব্যবহার করে ক্লাস থেকে চলে গিয়ে অদ্যবদি বিদ্যালয়ে আসেনি। বিষয়টি তার অভিবাবকদের জানানো হলেও তারা কোন সাড়া দেননি। পরে ২৩ অক্টোবর ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে টিসি দেওয়া হয়েছে বলে তাকে জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু টিসি না নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্যকে সাথে নিয়ে সহকারী শিক্ষক রুহুল আমিনকে হয়রানি করতে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।’


Warning: Trying to access array offset on value of type bool in /home/charidik/public_html/wp-content/themes/jnews/class/Module/Block/Block_9_View.php on line 13

Related Posts