শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, সকাল ৬:০৭
শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩,সকাল ৬:০৭

রাস্তাঘাটে সমাবেশের অনুমতি পাবে না বিএনপি

চারিদিক ডেস্ক

৫ ডিসেম্বর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

১০:২৫ pm

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে অনেকটাই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে রাজধানীতে। এরই মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় ছাড়াও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ। তবে সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো ঠিক হয়নি সমাবেশস্থল। যদিও ২৬ শর্তে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। তবে নিজেদের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নয়াপল্টনেই সমাবেশে অনড় বিএনপি।

এ নিয়ে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, বিএনপি রাস্তায় সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না।

খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বিকল্প স্থানের প্রস্তাব পাইনি। আমরা তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে রেখেছি।’

বিষয়টি নিয়ে রোববারও (৪ ডিসেম্বর) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। ওইদিন বিকেল সোয়া ৪টার পর মিন্টো রোডের ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান জানিয়েছিলেন, নয়াপল্টনে সমাবেশের কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত সেটাই রয়েছে। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলোচনার পরে যদি কোনো নতুন কিছু আসে, সেটা জানানো হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ৯টি বিভাগীয় সমাবেশে যেভাবে হয়েছে ঢাকার সমাবেশ ঠিক সেভাবেই হবে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে। এমন কিছু হবে না যে, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। যদি সরকারি দলের পক্ষ থেকে না হয়, যদি সরকারের পক্ষ থেকে না হয়।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, ঢাকায় সমাবেশের পূর্বে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে এটাও পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করেছি। ঢাকায় গণসমাবেশে জনস্রোত বাধাগ্রস্ত করতে তারা (সরকার) এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার বিষয় কমিশনারকে অনুরোধ জানিয়েছি।

এদিকে, বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম জানিয়েছিলেন, ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নিয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বুঝানোর চেষ্টা করেছি। সারাদেশে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে যেভাবে আমরা সমাবেশ পালন করেছি, একইভাবে ঢাকাতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ পালন করব।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে ১০ তারিখের সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারি এবং অনুরোধ করেছি এর পূর্বে যাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি জন্য এমন কোনো কথা না বলা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণে যে গ্রেফতার চলছে, যাতে কোনভাবে বিএনপির একটি কর্মীও এ সময় গ্রেফতার না হয়। যদি বলা হয় যে- মামলা রয়েছে, মামলা তো সকলের বিরুদ্ধে রয়েছে। কিন্তু আটক করে পুরানো মামলায় দেওয়া হয়।

বৈঠকের বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের জন্য ভেন্যুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে আবার আলোচনা করব। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সমাবেশটি ভালোভাবে করতে পারি। সে জন্য উনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন, আমরাও সহযোগিতা করব এবং ভেন্যুর ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি, এটা পরবর্তী পর্যায়ে জানাব। এখন পর্যন্ত আমাদের যে ভেন্যু সেটাই ঠিক আছে।

রোববারের ওই বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু উপস্থিত ছিলেন।

Related Posts

রাস্তাঘাটে সমাবেশের অনুমতি পাবে না বিএনপি

চারিদিক ডেস্ক

৫ ডিসেম্বর, ২০২২,

১০:২৫ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে অনেকটাই থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে রাজধানীতে। এরই মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় ছাড়াও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে পুলিশ। তবে সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো ঠিক হয়নি সমাবেশস্থল। যদিও ২৬ শর্তে বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। তবে নিজেদের পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নয়াপল্টনেই সমাবেশে অনড় বিএনপি।

এ নিয়ে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেছেন, বিএনপি রাস্তায় সমাবেশ করার অনুমতি পাবে না।

খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা কোনো বিকল্প স্থানের প্রস্তাব পাইনি। আমরা তাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে রেখেছি।’

বিষয়টি নিয়ে রোববারও (৪ ডিসেম্বর) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। ওইদিন বিকেল সোয়া ৪টার পর মিন্টো রোডের ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান জানিয়েছিলেন, নয়াপল্টনে সমাবেশের কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত সেটাই রয়েছে। বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আলোচনার পরে যদি কোনো নতুন কিছু আসে, সেটা জানানো হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ৯টি বিভাগীয় সমাবেশে যেভাবে হয়েছে ঢাকার সমাবেশ ঠিক সেভাবেই হবে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে। এমন কিছু হবে না যে, কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। যদি সরকারি দলের পক্ষ থেকে না হয়, যদি সরকারের পক্ষ থেকে না হয়।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, ঢাকায় সমাবেশের পূর্বে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে এটাও পুলিশ কমিশনারকে অবহিত করেছি। ঢাকায় গণসমাবেশে জনস্রোত বাধাগ্রস্ত করতে তারা (সরকার) এই পথ বেছে নিয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার বিষয় কমিশনারকে অনুরোধ জানিয়েছি।

এদিকে, বৈঠকের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম জানিয়েছিলেন, ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের স্থান নিয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা বুঝানোর চেষ্টা করেছি। সারাদেশে নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে যেভাবে আমরা সমাবেশ পালন করেছি, একইভাবে ঢাকাতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ পালন করব।

বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে ১০ তারিখের সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারি এবং অনুরোধ করেছি এর পূর্বে যাতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি জন্য এমন কোনো কথা না বলা হয়। পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণে যে গ্রেফতার চলছে, যাতে কোনভাবে বিএনপির একটি কর্মীও এ সময় গ্রেফতার না হয়। যদি বলা হয় যে- মামলা রয়েছে, মামলা তো সকলের বিরুদ্ধে রয়েছে। কিন্তু আটক করে পুরানো মামলায় দেওয়া হয়।

বৈঠকের বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের জন্য ভেন্যুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনে আবার আলোচনা করব। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সমাবেশটি ভালোভাবে করতে পারি। সে জন্য উনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন, আমরাও সহযোগিতা করব এবং ভেন্যুর ব্যাপারে আমরা আলোচনা করেছি, এটা পরবর্তী পর্যায়ে জানাব। এখন পর্যন্ত আমাদের যে ভেন্যু সেটাই ঠিক আছে।

রোববারের ওই বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু উপস্থিত ছিলেন।

Related Posts