শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, সকাল ৬:৩৮
শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩,সকাল ৬:৩৮

তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেড়েছে সরিষার আবাদ 

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

৩ ডিসেম্বর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৫:৩৩ pm

ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে এ বছর যশোরের ঝিকরগাছায় সরিষার আবাদ বেড়েছে। চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে কৃষকেরা সরিষার আবাদ করেছেন। এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত দামের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষার আবাদ বাড়াতে কৃষি অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) প্রণোদনা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসেব মতে,  চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। চাষ হয়েছে দুই হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্ত জোড়া মাঠে যতদূর চোখ যায় সরিষার খেত। হলুদ ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে সরিষার খেত।

উপজেলার সন্তোষনগর গ্রামের মিঠুন সরকার বলেন, ‘আড়াই বিঘা সরিষা চাষের ফলে পরিবারের তেলের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের খরচ যোগান দিতে পারব। এবার সরিষার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।’

হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের মাহমুদ মুকুল বলেন, ‘আমি শিক্ষকতার সাথে জড়িত থাকায় চাষাবাদ তেমন করা হয় না। তবে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে এ বছর তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। আগাম বৃষ্টিতে বিঘা খানেক জমির সরিষা নষ্ট হয়েছে বাকি জমিগুলোতে ভালো ফলনের আশা করছি।’

বোধথানা গ্রামের কাজী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় এ বছর দুই বিঘা পাঁচ কাটা জমিতে দেশিয় টরে-৭ জাতের সরিষা চাষ করেছি। বেশ কয়েক বছর পর এবার নিজের সংসারের তেলের চাহিদা পূরণের জন্য সরিষার আবাদ করেছি।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন বলেন, ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এবার আমার ব্লকে সরিষার আবাদ বেড়েছে। খেতে ফুলে ভরে গেছে। গাছ দেখে  মনে হচ্ছে ফলন ভালো হবে।’

ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অপ্রধান শস্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কর্মসূচির আওতায় বিআরডিবি’র ১৩৫ জন সদস্যকে সরিষার বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, ‘সরিষা একটি লাভজনক ঝুঁকিমুক্ত ফসল। সরিষার আবাদ বৃদ্ধিতে বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৮০০ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।’

Related Posts

তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বেড়েছে সরিষার আবাদ 

ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

৩ ডিসেম্বর, ২০২২,

৫:৩৩ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে এ বছর যশোরের ঝিকরগাছায় সরিষার আবাদ বেড়েছে। চলতি রবি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে কৃষকেরা সরিষার আবাদ করেছেন। এখনও পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত দামের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষার আবাদ বাড়াতে কৃষি অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) প্রণোদনা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের হিসেব মতে,  চলতি মৌসুমে উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এক হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। চাষ হয়েছে দুই হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, সরিষার হলুদ ফুলে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্ত জোড়া মাঠে যতদূর চোখ যায় সরিষার খেত। হলুদ ফুলে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে সরিষার খেত।

উপজেলার সন্তোষনগর গ্রামের মিঠুন সরকার বলেন, ‘আড়াই বিঘা সরিষা চাষের ফলে পরিবারের তেলের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি সরিষা বিক্রি করে বোরো আবাদের খরচ যোগান দিতে পারব। এবার সরিষার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।’

হাড়িয়াদেয়াড়া গ্রামের মাহমুদ মুকুল বলেন, ‘আমি শিক্ষকতার সাথে জড়িত থাকায় চাষাবাদ তেমন করা হয় না। তবে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধিতে এ বছর তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। আগাম বৃষ্টিতে বিঘা খানেক জমির সরিষা নষ্ট হয়েছে বাকি জমিগুলোতে ভালো ফলনের আশা করছি।’

বোধথানা গ্রামের কাজী ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় এ বছর দুই বিঘা পাঁচ কাটা জমিতে দেশিয় টরে-৭ জাতের সরিষা চাষ করেছি। বেশ কয়েক বছর পর এবার নিজের সংসারের তেলের চাহিদা পূরণের জন্য সরিষার আবাদ করেছি।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আইয়ুব হোসেন বলেন, ভোজ্য তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে এবার আমার ব্লকে সরিষার আবাদ বেড়েছে। খেতে ফুলে ভরে গেছে। গাছ দেখে  মনে হচ্ছে ফলন ভালো হবে।’

ঝিকরগাছা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বিআরডিবি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘অপ্রধান শস্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কর্মসূচির আওতায় বিআরডিবি’র ১৩৫ জন সদস্যকে সরিষার বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদ হোসেন পলাশ বলেন, ‘সরিষা একটি লাভজনক ঝুঁকিমুক্ত ফসল। সরিষার আবাদ বৃদ্ধিতে বীজ, সার ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৮০০ কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।’

Related Posts