শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, বিকাল ৫:২৫
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,বিকাল ৫:২৫

নিষেধাজ্ঞার সপ্তাহ পার, এখনো দেওয়া হয়নি খাদ্য সহায়তা

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)

১৩ অক্টোবর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৪:২৮ pm

মা’ ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে মৎস্য আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে খাদ্য সহায়তা হিসেবে জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। অথচ নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও চাল পাননি বাগেরহাটের শরণখোলার জেলেরা।

মৎস্য অফিস জানিয়েছে, দুই দিন আগে চালের ডিও এসেছে। কিন্তু জেলেদের তালিকা এখনো প্রস্তুত না হওয়ায় চাল দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে এই চাল বিতরণ করা হতে পারে।

এদিকে, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার পাঁচ সহস্রাধিক সমুদ্রগামী (ইলিশ আহরণকারী) জেলে। জাল-জলেই যাদের জীবন-জীবিকা, তারা অন্য কোনো কাজও করতে পারছেন না এখন। এমন পরিস্থিতিতে এসব হতদরিদ্র জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে বেশিরভাগ জেলেকে। কেউ কেউ আবার মহাজনদের জাল মেরামত করে যা পাচ্ছেন তা দিয়েই দিনাতিপাত করছেন কোনোমতে।

উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামের জেলে মো. জামাল তালুকদার জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরছেন তিনি। মাছ ধরেই চলে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার। অবরোধে (নিষেধাজ্ঞা) হাতে কোনো কাজ নেই। সংসার চালানোর মতো অন্য কোনো উপায়ও নেই। তাই মহাজনের জাল মেরামত করছেন। প্রতিদিন তিন শ টাকা পান। তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার হলেও সরকারি চাল এখনো পাননি। চাল পেলে কিছুটা হলেও উপকার হতো বলে হতাশা প্রকাশ করেন এই জেলে।

খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মঠেরপাড় জেলে মো. জাকির খলিফা জানান, ছয় সদস্যের সংসার তার। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চরম কষ্টে আছেন। মহাজনের কাছ থেকে এরই মধ্যে ৫-৬ হাজার টাকা ধার নিয়ে সংসারে খরচ করেছেন। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে সমিতির (এনজিও) ২০ হাজার টাকা ঋণের কিস্তি টানতে হয়। দিনমজুরি ও জাল মেরামত করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পান। তা দিয়ে সংসারের খরচ আর ঋণের কিস্তি শোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার।

জেলে-মহাজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জেলেদের নামে বরাদ্দের চাল সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। এর আগে ৬৫ দিনে নিষেধাজ্ঞার চাল দেওয়া হয়েছে একেবারে শেষের দিকে। এবার ২২ দিনের সপ্তাহ পার হলেও দেওয়া হয়নি।সরকারি চাল না পাওয়া এবং হাতে বিকল্প কোনো কাজ না থাকায় ইলিশ আহরণকারী সকল জেলে পরিবারেই এমন দুর্দিন যাচ্ছে। তারা দ্রুত খাদ্য সহায়তার চাল দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. কবির আড়ৎদার ও এফবি মা’ বুশরা ট্রলারের মালিক মো. বেলায়েত খান বলেন, এবছর আমরা ব্যবসায়ীরা সবাই লোকসানে আছি। এ অবস্থায় বেকার জেলেদেরও টাকা-পয়সা দিয়ে চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের কাছে এসে টাকা ধার নিচ্ছেন তারা। জেলেদের ২৫ কেজি করে সরকারি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা পায়নি। চাল পেলে তাদের অনেকটা উপকার হতো।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিম সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘মৌসুমের প্রায় তিন মাস নিষেধাজ্ঞা আর বার বার দুর্যোগ হানা দেওয়ায় এবছর আশানুরুপ ইলিশ ধরা পড়েনি। একারণে বেশিরভাগ মহাজন লোকসানে রয়েছেন। ৬৫ দিন বা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সরকার ট্রলার মালিকদের কোনো সহায়তা দেয়না। জেলেদের সহায়তা দিলেও তা তারা সময় মতো পাচ্ছেন না। হতদরিদ্র জেলেরা চরম কষ্টে দিন পার করছেন। তাদেরকে দ্রুত চাল বিতরণের দাবি জানাই’।

উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, গত বৃহস্পতিবার ডিও পেয়েছি। কিন্তু জেলেদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে একটু সময় লাগছে। আশা করি আগামী রোব-সোমবারেই চাল দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যান্য বছর মা’ ইলিশ সংরক্ষণ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নিবন্ধিত প্রতি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এবার সেখানে ৫ কেজি বৃদ্ধি করে ২৫ কেজি করেছে সরকার।

 

Related Posts

নিষেধাজ্ঞার সপ্তাহ পার, এখনো দেওয়া হয়নি খাদ্য সহায়তা

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)

১৩ অক্টোবর, ২০২২,

৪:২৮ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

মা’ ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে মৎস্য আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। চলবে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে খাদ্য সহায়তা হিসেবে জেলেদের ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। অথচ নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও চাল পাননি বাগেরহাটের শরণখোলার জেলেরা।

মৎস্য অফিস জানিয়েছে, দুই দিন আগে চালের ডিও এসেছে। কিন্তু জেলেদের তালিকা এখনো প্রস্তুত না হওয়ায় চাল দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে এই চাল বিতরণ করা হতে পারে।

এদিকে, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছেন উপজেলার পাঁচ সহস্রাধিক সমুদ্রগামী (ইলিশ আহরণকারী) জেলে। জাল-জলেই যাদের জীবন-জীবিকা, তারা অন্য কোনো কাজও করতে পারছেন না এখন। এমন পরিস্থিতিতে এসব হতদরিদ্র জেলে পরিবারে দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট। ধার-দেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে বেশিরভাগ জেলেকে। কেউ কেউ আবার মহাজনদের জাল মেরামত করে যা পাচ্ছেন তা দিয়েই দিনাতিপাত করছেন কোনোমতে।

উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামের জেলে মো. জামাল তালুকদার জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরছেন তিনি। মাছ ধরেই চলে তার পাঁচ সদস্যের পরিবার। অবরোধে (নিষেধাজ্ঞা) হাতে কোনো কাজ নেই। সংসার চালানোর মতো অন্য কোনো উপায়ও নেই। তাই মহাজনের জাল মেরামত করছেন। প্রতিদিন তিন শ টাকা পান। তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার হলেও সরকারি চাল এখনো পাননি। চাল পেলে কিছুটা হলেও উপকার হতো বলে হতাশা প্রকাশ করেন এই জেলে।

খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মঠেরপাড় জেলে মো. জাকির খলিফা জানান, ছয় সদস্যের সংসার তার। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় চরম কষ্টে আছেন। মহাজনের কাছ থেকে এরই মধ্যে ৫-৬ হাজার টাকা ধার নিয়ে সংসারে খরচ করেছেন। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে সমিতির (এনজিও) ২০ হাজার টাকা ঋণের কিস্তি টানতে হয়। দিনমজুরি ও জাল মেরামত করে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পান। তা দিয়ে সংসারের খরচ আর ঋণের কিস্তি শোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তার।

জেলে-মহাজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জেলেদের নামে বরাদ্দের চাল সঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। এর আগে ৬৫ দিনে নিষেধাজ্ঞার চাল দেওয়া হয়েছে একেবারে শেষের দিকে। এবার ২২ দিনের সপ্তাহ পার হলেও দেওয়া হয়নি।সরকারি চাল না পাওয়া এবং হাতে বিকল্প কোনো কাজ না থাকায় ইলিশ আহরণকারী সকল জেলে পরিবারেই এমন দুর্দিন যাচ্ছে। তারা দ্রুত খাদ্য সহায়তার চাল দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. কবির আড়ৎদার ও এফবি মা’ বুশরা ট্রলারের মালিক মো. বেলায়েত খান বলেন, এবছর আমরা ব্যবসায়ীরা সবাই লোকসানে আছি। এ অবস্থায় বেকার জেলেদেরও টাকা-পয়সা দিয়ে চালিয়ে রাখতে হচ্ছে। প্রতিদিন আমাদের কাছে এসে টাকা ধার নিচ্ছেন তারা। জেলেদের ২৫ কেজি করে সরকারি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা পায়নি। চাল পেলে তাদের অনেকটা উপকার হতো।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিম সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘মৌসুমের প্রায় তিন মাস নিষেধাজ্ঞা আর বার বার দুর্যোগ হানা দেওয়ায় এবছর আশানুরুপ ইলিশ ধরা পড়েনি। একারণে বেশিরভাগ মহাজন লোকসানে রয়েছেন। ৬৫ দিন বা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সরকার ট্রলার মালিকদের কোনো সহায়তা দেয়না। জেলেদের সহায়তা দিলেও তা তারা সময় মতো পাচ্ছেন না। হতদরিদ্র জেলেরা চরম কষ্টে দিন পার করছেন। তাদেরকে দ্রুত চাল বিতরণের দাবি জানাই’।

উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, গত বৃহস্পতিবার ডিও পেয়েছি। কিন্তু জেলেদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে একটু সময় লাগছে। আশা করি আগামী রোব-সোমবারেই চাল দেওয়া সম্ভব হবে। অন্যান্য বছর মা’ ইলিশ সংরক্ষণ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় নিবন্ধিত প্রতি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এবার সেখানে ৫ কেজি বৃদ্ধি করে ২৫ কেজি করেছে সরকার।

 

Related Posts