মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৪:২৩
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৪:২৩

মধ্যরাত থেকে শুরু ‘মা’ ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)

৬ অক্টোবর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৫:৩৯ pm

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদী এবং পদ্মা-মেঘনার অববাহিকাসহ দেশের ১৩৪ টি উপজেলায় বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কারণ শুক্রবার (৭ অক্টোবর) থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত্ম ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজন মৌসুম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট এসব অঞ্চলের জেলেরা নদ-নদী ও সাগরে কোনো ধরণের জাল ফেলতে পারবেন না।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার খবরে গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণকারী বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলের ফিশিং ট্রলারগুলো গত বুধবার রাত থেকে কূলে ফিরতে শুরু করে। ইতোমধ্যে শরণখোলার তিন শতাধিক ট্রলারের মধ্যে অধিকাংশ ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। কিছু ট্রলার এখন পথে রয়েছে। সেসব ট্রলারও রাত ১২টার আগেই ঘাটে ফিরবে বলে শরণখোলার মৎস্যজীবি সংগঠন নিশ্চিত করেছে।
অপরদিকে, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন উপকূলের সমুদ্রগামী জেলে-মহাজনরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের সমুদ্র জলসীমায় যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরম্ন হয় তখন প্রতিবেশী রাস্ট্র ভারতের জলসীমা খোলা থাকে। এই সুযোগে ভারতের জেলেরা বাংলাদেশে ঢুকে অবৈধভাবে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে দেশীয় মৎস্য সম্পদসহ জেলেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর আগে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়েও ভারতের শত শত ট্রলার আমাদের জলসীমায় প্রবেশ করে টনকে টন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে তারা লাভবান হয়েছে। ওই সময় বেশকছিু ভারতীয় ট্রলার ও জেলে আটক হয়েছে নৌবাহির হাতে। তাই ভারতের জেলেদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে মা ইলিশ সংরক্ষণের এই উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না।

মৎস্য বিভিাগ সূত্র জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ অধ্যুষিত দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলে ২২দিন সব ধরণের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলের নিবন্ধিত সকল জেলেকে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যান্য বছর নিষেধাজ্ঞার কারণে বেকার হয়ে পড়া জেলেদের ২২দিনে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সেখানে আরো ৫ কেজি বৃদ্ধি করে ২৫ কেজি নির্ধাণ করা হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, আমাদের শরণখোলায় গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী তিন শতাধিক ট্রলার রয়েছে। এবারের মৌসুমে সকল মহাজনই লোকসানে রয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে জেলেরা। এরপর আবার এই ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরম্ন হলো। এক কথায় পাঁচ মাসের ইলিশ মৌসুমের তিন মাসই চলে যায় নিষেধাজ্ঞায়। আর বাকি দুই মাসে সাগরে নেমে জাল ফেলতে না ফেলতেই শুরু হয় দুর্যোগ। এতে জেলে-মহাজনরা সর্বশান্ত হয়ে গেছে।

মৎস্যজীবি নেতা আবুল হোসেন বলেন, এবার উপকূলের হাতেগোণা কিছু ট্রলারে ইলিশ ধরা পড়েছে। তাছাড়া শরণখোলাসহ উপকূলের অধিকাংশ ট্রলার মালিক ও মহাজন লাভের মুখ দেখেনি।

শরণখোলার তিন শতাধিক ট্রলার মালিক, শতাধিক আড়ৎদার এবং এই মৎস্য আহরণে ১০ হাজারেরও বেশি জেলে ও শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪-৫টি ট্রলারে মালিক লাভে রয়েছেন। তাছাড়া সবাই লোকসানে রয়েছে।

আবুল হোসেন সংশয় প্রকাশ করে আরো বলেন, প্রতিবছর সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা আমরা যথাযথভাবে পালন করি। কিন্তু ভারতের জেলেরা এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আমাদের জলসীমানায় অবৈধভারে প্রবেশ করে সমস্ত মাছ ধরে নিয়ে যায়। আমরা সরকারের কাছে বার বার অভিযোগ করলেও ভারতের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হয়না। এতে দেশীয় জেলে-মহাজনরা ক্ষতিগ্রস্ত আর  ভারতের জেলেরা লাভবান হচ্ছে। এব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন না করলে নিষেধজ্ঞা দিয়ে কোনো সুফল আসবে না।

শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের বঙ্গোপসাগর, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকা এবং উপকূলসহ দেশের ১৩৪ টি উপজেলাকে এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতোমধ্যে উপজেলার সর্বত্র মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার স্থাপন ও জেলে-মহাজনদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমুদ্র ও স্থানীয় নদ-নদী মাছ ধরারত সকল নৌকা ও ট্রলার ঘাটে ফিরতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিদিনই টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। শরণখোলার পাঁচ সহস্রাধকি সমুদ্রগামী জেলের প্রত্যেককে নিষেধাজ্ঞার এই ২২দিনে খাদ্য সহায়তা হিসেবে এবার ২০ কেজির পরিবর্তে আরো ২৫ কেজি বাড়িয়ে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছে সরকার।

ভারতের জেলেদের অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, জেলেরা আমাদের কাছে এ ধরণের অভিযোগ প্রায়ই করে থাকেন। এবছর ৬৫দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় জেলেসহ বেশ কিছু ট্রলার আটক হয়েছে। জেলেদের অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।

 

Related Posts

মধ্যরাত থেকে শুরু ‘মা’ ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)

৬ অক্টোবর, ২০২২,

৫:৩৯ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় নদ-নদী এবং পদ্মা-মেঘনার অববাহিকাসহ দেশের ১৩৪ টি উপজেলায় বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কারণ শুক্রবার (৭ অক্টোবর) থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত্ম ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজন মৌসুম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট এসব অঞ্চলের জেলেরা নদ-নদী ও সাগরে কোনো ধরণের জাল ফেলতে পারবেন না।

এদিকে, নিষেধাজ্ঞার খবরে গভীর সমুদ্রে ইলিশ আহরণকারী বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলের ফিশিং ট্রলারগুলো গত বুধবার রাত থেকে কূলে ফিরতে শুরু করে। ইতোমধ্যে শরণখোলার তিন শতাধিক ট্রলারের মধ্যে অধিকাংশ ট্রলার ঘাটে ফিরেছে। কিছু ট্রলার এখন পথে রয়েছে। সেসব ট্রলারও রাত ১২টার আগেই ঘাটে ফিরবে বলে শরণখোলার মৎস্যজীবি সংগঠন নিশ্চিত করেছে।
অপরদিকে, নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন উপকূলের সমুদ্রগামী জেলে-মহাজনরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের সমুদ্র জলসীমায় যখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরম্ন হয় তখন প্রতিবেশী রাস্ট্র ভারতের জলসীমা খোলা থাকে। এই সুযোগে ভারতের জেলেরা বাংলাদেশে ঢুকে অবৈধভাবে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে দেশীয় মৎস্য সম্পদসহ জেলেরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এর আগে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়েও ভারতের শত শত ট্রলার আমাদের জলসীমায় প্রবেশ করে টনকে টন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে তারা লাভবান হয়েছে। ওই সময় বেশকছিু ভারতীয় ট্রলার ও জেলে আটক হয়েছে নৌবাহির হাতে। তাই ভারতের জেলেদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে মা ইলিশ সংরক্ষণের এই উদ্যোগ কোনো কাজে আসবে না।

মৎস্য বিভিাগ সূত্র জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ ও ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ অধ্যুষিত দেশের নির্দিষ্ট অঞ্চলে ২২দিন সব ধরণের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব অঞ্চলের নিবন্ধিত সকল জেলেকে সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। অন্যান্য বছর নিষেধাজ্ঞার কারণে বেকার হয়ে পড়া জেলেদের ২২দিনে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। কিন্তু এবার সেখানে আরো ৫ কেজি বৃদ্ধি করে ২৫ কেজি নির্ধাণ করা হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, আমাদের শরণখোলায় গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী তিন শতাধিক ট্রলার রয়েছে। এবারের মৌসুমে সকল মহাজনই লোকসানে রয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে জেলেরা। এরপর আবার এই ২২দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরম্ন হলো। এক কথায় পাঁচ মাসের ইলিশ মৌসুমের তিন মাসই চলে যায় নিষেধাজ্ঞায়। আর বাকি দুই মাসে সাগরে নেমে জাল ফেলতে না ফেলতেই শুরু হয় দুর্যোগ। এতে জেলে-মহাজনরা সর্বশান্ত হয়ে গেছে।

মৎস্যজীবি নেতা আবুল হোসেন বলেন, এবার উপকূলের হাতেগোণা কিছু ট্রলারে ইলিশ ধরা পড়েছে। তাছাড়া শরণখোলাসহ উপকূলের অধিকাংশ ট্রলার মালিক ও মহাজন লাভের মুখ দেখেনি।

শরণখোলার তিন শতাধিক ট্রলার মালিক, শতাধিক আড়ৎদার এবং এই মৎস্য আহরণে ১০ হাজারেরও বেশি জেলে ও শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪-৫টি ট্রলারে মালিক লাভে রয়েছেন। তাছাড়া সবাই লোকসানে রয়েছে।

আবুল হোসেন সংশয় প্রকাশ করে আরো বলেন, প্রতিবছর সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণের নিষেধাজ্ঞা আমরা যথাযথভাবে পালন করি। কিন্তু ভারতের জেলেরা এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আমাদের জলসীমানায় অবৈধভারে প্রবেশ করে সমস্ত মাছ ধরে নিয়ে যায়। আমরা সরকারের কাছে বার বার অভিযোগ করলেও ভারতের জেলেদের মাছ ধরা বন্ধ হয়না। এতে দেশীয় জেলে-মহাজনরা ক্ষতিগ্রস্ত আর  ভারতের জেলেরা লাভবান হচ্ছে। এব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন না করলে নিষেধজ্ঞা দিয়ে কোনো সুফল আসবে না।

শরণখোলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের বঙ্গোপসাগর, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকা এবং উপকূলসহ দেশের ১৩৪ টি উপজেলাকে এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা সফল করতে ইতোমধ্যে উপজেলার সর্বত্র মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, ব্যানার স্থাপন ও জেলে-মহাজনদের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।
এছাড়া, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমুদ্র ও স্থানীয় নদ-নদী মাছ ধরারত সকল নৌকা ও ট্রলার ঘাটে ফিরতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিদিনই টহল ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। শরণখোলার পাঁচ সহস্রাধকি সমুদ্রগামী জেলের প্রত্যেককে নিষেধাজ্ঞার এই ২২দিনে খাদ্য সহায়তা হিসেবে এবার ২০ কেজির পরিবর্তে আরো ২৫ কেজি বাড়িয়ে ২৫ কেজি করে চাল বিতরণের সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছে সরকার।

ভারতের জেলেদের অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা বিনয় কুমার রায় বলেন, জেলেরা আমাদের কাছে এ ধরণের অভিযোগ প্রায়ই করে থাকেন। এবছর ৬৫দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় ভারতীয় জেলেসহ বেশ কিছু ট্রলার আটক হয়েছে। জেলেদের অভিযোগ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবেন।

 

Related Posts