মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৪:২০
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৪:২০

অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে, হত্যাকারী দ্বিতীয় স্বামী গ্রেফতার

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 

৬ অক্টোবর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৫:২৩ pm

বুধবার (৫ অক্টোবর) রাতে যশোরের মনিরামপুরে কলা বাগান থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত নারীর নাম হীরা বেগম (৩০)। তিনি উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন চাকলা গ্রামের ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সুমন হোসেনের স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্বামী উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর (চাকলা) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসলাম গাজীকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ যশোরের একটি দল। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকালে র্যাব-৬ এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এদিকে হীরা বেগম হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা নড়াইল সদরের বাগডাঙা গ্রামের আক্তার মোল্য বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

নিহতের বর্তমান স্বামী সুমন হোসেন বলেন, ১৫ বছর আগে হীরার সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। ৫ মাস আগে তাকে তালাক দিয়ে প্রতিবেশী ইউপি সদস্য ইসলাম গাজীকে বিয়ে করেন হীরা। এটি মেম্বরের ২য় বিয়ে। এক মাস আগে মেম্বরকে তালাক দিয়ে নড়াইলে বাবার বাড়ি চলে যান হিরা। এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পারিবারিকভাবে আবার আমাদের বিয়ে হয়। ঝামেলা এড়াতে তিনি নড়াইল শহরে ঘর ভাড়া নেন। গত সোমবার (৩ অক্টোবর) শ্বশুর বাড়ি থেকে ছেলে আবু তালেবকে (৯) নিয়ে তার বাসার উদ্দেশে বের হন হীরা। পরে তিনি বাসায় না গিয়ে ছেলেকে নিয়ে ইসলামের সাথে মনিরামপুরে চলে আসেন।

নিহতের ছেলে আবু তালেব বলে, ‘মেম্বর আমাদের মনিরামপুর বাজারে একটা বাসায় নিয়ে আসে। রাতে আমার মা বাথরুমে ঢুকলে মেম্বর জুসের সাথে বিষ মিশিয়ে আমাকে খেতে বলে। আমি খেতে রাজি না হলে সে মুখ টিপে ধরে জুস আমার গালে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে আমাকে মনিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে ডাক্তার ওয়াশ করে আমার বিষ বের করে’।

সুমন হোসেন বলেন, অবস্থা খারাপ হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে ছেলেকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে স্ত্রী ও ছেলেকে রেখে টাকা আনতে বুধবার আমি নড়াইলে বাসায় যাই। বিকেলে ইসলাম হাসপাতাল থেকে আমার স্ত্রী হীরাকে জোর করে তুলে নিয়ে আসে।

সুমন বলেন, ‘বুধবার রাত ৮টায় আমার স্ত্রীর মোবাইলে কল করলে ইসলাম মেম্বর মোবাইল ধরে বলেন হীরা নড়াইলে চলে গেছে। তার কিছুক্ষণ পরে শুনি হীরা খুন হয়েছে’।

র‌্যাব-৬ যশোরের কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট নাজিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনিরামপুরে গৃহবধূ খুনের পর জানতে পারি যশোরের বেজপাড়ায় খুনি আত্মগোপনে আছে। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালিয়ে নিহতের সাবেক স্বামী ইসলাম গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে’।
এম নাজিউর রহমান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে ইসলাম ছুরি দিয়ে হীরাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। ইসলামকে মনিরামপুর থানায় সোপর্দ করা হবে।

মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, বুধবার রাতে মনিরামপুরের জয়নগরের একটি কলাবাগান থেকে হীরা বেগম নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের দেহে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি।

গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, র্যাবের আসামি আটকের বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। হীরা বেগম নিহতের ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

Related Posts

অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে, হত্যাকারী দ্বিতীয় স্বামী গ্রেফতার

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 

৬ অক্টোবর, ২০২২,

৫:২৩ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

বুধবার (৫ অক্টোবর) রাতে যশোরের মনিরামপুরে কলা বাগান থেকে উদ্ধার রক্তাক্ত অজ্ঞাত নারীর মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত নারীর নাম হীরা বেগম (৩০)। তিনি উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন চাকলা গ্রামের ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী সুমন হোসেনের স্ত্রী।
এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্বামী উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর (চাকলা) ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসলাম গাজীকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬ যশোরের একটি দল। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) সকালে র্যাব-৬ এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এদিকে হীরা বেগম হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা নড়াইল সদরের বাগডাঙা গ্রামের আক্তার মোল্য বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

নিহতের বর্তমান স্বামী সুমন হোসেন বলেন, ১৫ বছর আগে হীরার সাথে তার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। ৫ মাস আগে তাকে তালাক দিয়ে প্রতিবেশী ইউপি সদস্য ইসলাম গাজীকে বিয়ে করেন হীরা। এটি মেম্বরের ২য় বিয়ে। এক মাস আগে মেম্বরকে তালাক দিয়ে নড়াইলে বাবার বাড়ি চলে যান হিরা। এরপর গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পারিবারিকভাবে আবার আমাদের বিয়ে হয়। ঝামেলা এড়াতে তিনি নড়াইল শহরে ঘর ভাড়া নেন। গত সোমবার (৩ অক্টোবর) শ্বশুর বাড়ি থেকে ছেলে আবু তালেবকে (৯) নিয়ে তার বাসার উদ্দেশে বের হন হীরা। পরে তিনি বাসায় না গিয়ে ছেলেকে নিয়ে ইসলামের সাথে মনিরামপুরে চলে আসেন।

নিহতের ছেলে আবু তালেব বলে, ‘মেম্বর আমাদের মনিরামপুর বাজারে একটা বাসায় নিয়ে আসে। রাতে আমার মা বাথরুমে ঢুকলে মেম্বর জুসের সাথে বিষ মিশিয়ে আমাকে খেতে বলে। আমি খেতে রাজি না হলে সে মুখ টিপে ধরে জুস আমার গালে ঢুকিয়ে দেয়। এরপর আমি অজ্ঞান হয়ে গেলে আমাকে মনিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে ডাক্তার ওয়াশ করে আমার বিষ বের করে’।

সুমন হোসেন বলেন, অবস্থা খারাপ হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে ছেলেকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে স্ত্রী ও ছেলেকে রেখে টাকা আনতে বুধবার আমি নড়াইলে বাসায় যাই। বিকেলে ইসলাম হাসপাতাল থেকে আমার স্ত্রী হীরাকে জোর করে তুলে নিয়ে আসে।

সুমন বলেন, ‘বুধবার রাত ৮টায় আমার স্ত্রীর মোবাইলে কল করলে ইসলাম মেম্বর মোবাইল ধরে বলেন হীরা নড়াইলে চলে গেছে। তার কিছুক্ষণ পরে শুনি হীরা খুন হয়েছে’।

র‌্যাব-৬ যশোরের কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট নাজিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনিরামপুরে গৃহবধূ খুনের পর জানতে পারি যশোরের বেজপাড়ায় খুনি আত্মগোপনে আছে। এরপর বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অভিযান চালিয়ে নিহতের সাবেক স্বামী ইসলাম গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে’।
এম নাজিউর রহমান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে ইসলাম ছুরি দিয়ে হীরাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। ইসলামকে মনিরামপুর থানায় সোপর্দ করা হবে।

মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, বুধবার রাতে মনিরামপুরের জয়নগরের একটি কলাবাগান থেকে হীরা বেগম নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের দেহে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি।

গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, র্যাবের আসামি আটকের বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। হীরা বেগম নিহতের ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

Related Posts