মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, সন্ধ্যা ৬:২১
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,সন্ধ্যা ৬:২১

বিদায় বেলায় আবিরে রাঙা উৎসব  

চারিদিক ডেস্ক

৫ অক্টোবর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৬:৪০ pm

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে আজ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। মর্ত্যলোক ছেড়ে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা। চোখে অশ্রু নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিসর্জন দেবেন প্রতিমা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারোদীয় উৎসব।

বুধবার বিদায় বেলায় বিহিত পূজা, আরাধনা আর সধবা নারীর সিঁদুর খেলার আচারে মুখরিত হয় দেশের বিভিন্ন এলাকার দুর্গা মণ্ডপ। সিঁদুরের রঙে একে অপরের গাল, কপাল রাঙিয়ে ভালোবাসা আর মেলবন্ধন গড়ে তোলেন নারীরা। ছোট ছোট শিশুদের কপালেও দেখা যায় লাল তিলক।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ ছিল দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা । সংক্ষিপ্ত আয়োজনের কারণে বেশিরভাগ স্থানেই হয়নি সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের শোভাযাত্রা। করোনা কমে যাওয়ায় এবার রঙিন আয়োজনে মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

শাস্ত্র অনুসারে সিঁদুর শক্তির প্রতীক। নারী হলেন শক্তি, সেই শক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সিঁদুরের ব্যবহার করা হয়। পরে রাঙা সিঁদুর হয়ে উঠে নারীর সাজের অঙ্গ।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ‘পিতৃগৃহ’ থেকে পুত্র-কন্যা নিয়ে দুর্গা ফিরে যান কৈলাসে তার ‘স্বামীর’ ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে। তাই দশমীর দিন সকাল থেকে ‘আসছে বছর আবার হবে দেখা’ ধ্বনিতে মুখরিত পূজা প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে নানা আচারে চলে দেবী বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা।

সকালে দশমীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনে শেষ হয় দেবীর শাস্ত্রীয় বিসর্জন। পাশাপাশি দেবী প্তিমার হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে আরাধনা করা হয়। এরপর দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি।

করোনা কমে যাওয়ায় এবার শারদীয় দুর্গোৎসবের র‍্যালিতে রঙিন আয়োজনে মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ছবি- সমকাল

দর্পণ বিসর্জনের সময় প্রতিমার সামনে একটি আয়না রেখে তাতে দেবীকে দেখে তার কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বিদায় নেন ভক্তরা। মূলত এ আচারকেই দেবীর শাস্ত্রীয় বিসর্জন বলে। এছাড়া মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে প্রতিমা থেকে ঘটে এবং ঘট থেকে আবার ভক্তের হৃদয়ে মাকে নিয়ে আসাও বিসর্জনের আচার। দর্পণ বিসর্জনের পর মণ্ডপে চলে মা দুর্গাকে বরণ। জরা কাটিয়ে পৃথিবী যেন শস্য শ্যামল হয়ে ওঠে সেই প্রার্থনাও হয়। বাজে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনি।

আর দুর্গার চরণে সিঁদুর দিয়ে সেই সিঁদুর এক নারী পরিয়ে দেন আরেকজনের কপালে। বিকালে শঙ্খ ও উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাক-ঢোলের সনাতনি বাদ্যে দেবী বন্দনার গানে গানে হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা যাবেন বুড়িগঙ্গার তীরে।

Related Posts

বিদায় বেলায় আবিরে রাঙা উৎসব  

চারিদিক ডেস্ক

৫ অক্টোবর, ২০২২,

৬:৪০ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে আজ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। মর্ত্যলোক ছেড়ে বিদায় নেবেন দেবী দুর্গা। চোখে অশ্রু নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিসর্জন দেবেন প্রতিমা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারোদীয় উৎসব।

বুধবার বিদায় বেলায় বিহিত পূজা, আরাধনা আর সধবা নারীর সিঁদুর খেলার আচারে মুখরিত হয় দেশের বিভিন্ন এলাকার দুর্গা মণ্ডপ। সিঁদুরের রঙে একে অপরের গাল, কপাল রাঙিয়ে ভালোবাসা আর মেলবন্ধন গড়ে তোলেন নারীরা। ছোট ছোট শিশুদের কপালেও দেখা যায় লাল তিলক।

করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর নানা বিধিনিষেধে আবদ্ধ ছিল দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা । সংক্ষিপ্ত আয়োজনের কারণে বেশিরভাগ স্থানেই হয়নি সিঁদুর খেলা ও বিসর্জনের শোভাযাত্রা। করোনা কমে যাওয়ায় এবার রঙিন আয়োজনে মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।

শাস্ত্র অনুসারে সিঁদুর শক্তির প্রতীক। নারী হলেন শক্তি, সেই শক্তিকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সিঁদুরের ব্যবহার করা হয়। পরে রাঙা সিঁদুর হয়ে উঠে নারীর সাজের অঙ্গ।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে ‘পিতৃগৃহ’ থেকে পুত্র-কন্যা নিয়ে দুর্গা ফিরে যান কৈলাসে তার ‘স্বামীর’ ঘরে। এক বছর পর নতুন শরতে আবার তিনি আসবেন এই ধরণীতে। তাই দশমীর দিন সকাল থেকে ‘আসছে বছর আবার হবে দেখা’ ধ্বনিতে মুখরিত পূজা প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে নানা আচারে চলে দেবী বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা।

সকালে দশমীর বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনে শেষ হয় দেবীর শাস্ত্রীয় বিসর্জন। পাশাপাশি দেবী প্তিমার হাতে জরা, পান, শাপলা ডালা দিয়ে আরাধনা করা হয়। এরপর দেওয়া হয় পুষ্পাঞ্জলি।

করোনা কমে যাওয়ায় এবার শারদীয় দুর্গোৎসবের র‍্যালিতে রঙিন আয়োজনে মেতে উঠেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। ছবি- সমকাল

দর্পণ বিসর্জনের সময় প্রতিমার সামনে একটি আয়না রেখে তাতে দেবীকে দেখে তার কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য বিদায় নেন ভক্তরা। মূলত এ আচারকেই দেবীর শাস্ত্রীয় বিসর্জন বলে। এছাড়া মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে প্রতিমা থেকে ঘটে এবং ঘট থেকে আবার ভক্তের হৃদয়ে মাকে নিয়ে আসাও বিসর্জনের আচার। দর্পণ বিসর্জনের পর মণ্ডপে চলে মা দুর্গাকে বরণ। জরা কাটিয়ে পৃথিবী যেন শস্য শ্যামল হয়ে ওঠে সেই প্রার্থনাও হয়। বাজে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ ও উলুধ্বনি।

আর দুর্গার চরণে সিঁদুর দিয়ে সেই সিঁদুর এক নারী পরিয়ে দেন আরেকজনের কপালে। বিকালে শঙ্খ ও উলুধ্বনি, খোল-করতাল-ঢাক-ঢোলের সনাতনি বাদ্যে দেবী বন্দনার গানে গানে হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা। ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে ভক্তরা যাবেন বুড়িগঙ্গার তীরে।

Related Posts