মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৫:৩৮
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৫:৩৮

অজ্ঞান শিশুকে হাসপাতালে ফেলে পালালেন মা ও সৎ বাবা

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 

৪ অক্টোবর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৬:৫০ pm

যশোরের মনিরামপুরে আবু তালেব (৯) নামে এক শিশুকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন মা ও সৎ বাবা। গত সোমবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে।আজ (মঙ্গলবার) সকালে গুরুত্বর অসুস্থ শিশুটিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ করা হচ্ছে, শিশুটির মা হিরা খাতুন ও সৎ বাবা উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসলাম গাজী জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। পরে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মনিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করে পালিয়ে যান তাঁরা।

শিশু আবু তালেবের বাবার নাম সুমন হোসেন। তিনি মশ্মিমনগরের চাকলা গ্রামের বাসিন্দা। ৫ মাস আগে সুমন হোসেনকে তালাক দিয়ে শিশুটির মা হিরা খাতুন ইউপি সদস্য ইসলাম গাজীকে বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী হিরা খাতুন ও শিশুটিকে নিয়ে মনিরামপুর বাজারের দূর্গাপুরে ভাড়া বাসায় ওঠেন মেম্বর।

মনিরামপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ডবয় আক্তার হোসেন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনেন ওর বাবা-মা। তারা বলেছেন, জুস খেয়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়েছে। আমরা তাঁকে ভর্তি করে উপরের তলায় পাঠিয়ে দিই। কিছুক্ষণ পরে শিশুটিকে রেখে ওর বাবা-মা চলে যান। রাতে আর তাঁরা ফেরেননি। ভর্তি অন্য রোগীরা শিশুটির দেখভাল করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে ওর বাবা-মা আবার আসেন।

হাসপাতালের একাধিক রোগী জানান, জ্ঞান ফিরলে শিশুটি বলেছে, তাকে জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে চেয়েছিলেন মা ও সৎ বাবা। খেতে না চাওয়ায় শিশুটির গলা টিপে ধরেছিলেন তাঁরা। শিশুটির গলায় টিপে ধরার চিহ্ন আছে।

এদিকে শিশুটির সৎ বাবা ইউপি সদস্য ইসলাম গাজী বলেন, সুমন আমার প্রতিবেশী। ৫ মাস আগে তাঁর স্ত্রী হীরা তাকে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ে করেন। এরপর হীরার ছেলে আবু তালেবকে নিয়ে আমরা মনিরামপুরে ভাড়া বাড়িতে উঠি। এক মাস আগে হিরা আমাকে তালাক দিয়ে নওয়াপাড়ায় বাবার বাড়িতে চলে যান।

ইসলাম গাজী বলেন, আবারও আমার সাথে আসতে চাচ্ছেন হীরা। এ জন্য সোমবার নওয়াপাড়া থেকে ছেলেকে নিয়ে মনিরামপুরে আসছিলেন হীরা। গাড়ির ঝক্কিতে মাথা ঘুরছিল তালেবের। বাসায় আসার পর তাকে জুস খেতে দিই। এরপর মাথাঘুরে পড়ে যায় আবু তালেব। রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে ডাক্তার বলেছিল জ্ঞান ফিরতে সকাল হবে। এজন্য আমরা ওরে হাসপাতালে রেখে বাসায় চলে যাই।
মেম্বর আরো বলেন, সকালে হাসপাতালে গেলে রোগীর স্বজনরা আমাকে মারপিট করে।জুসের সাথে ঘুমের বড়ি খাওয়ানোর বিষয়টি সত্যি না। আমরা সকালে ওরে সদরে ভর্তি করেছি।

এদিকে শিশুটির মা হিরা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর নাম সুমন। মেম্বরের কাছে আমার পরিচয়পত্র থেকে গেছে। আইডি কার্ড নিতে ছেলেকে নিয়ে মেম্বরের বাসায় আসি। বাসায় একটা জুস ছিল। তা খাওয়ার পর ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

মনিরামপুর হাসপাতালের প্রধান তন্ময় বিশ্বাস বলেন, বিষাক্ত কিছু খাওয়া পড়েছে বলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চলে যান ওর বাবা-মা। সকালে শিশুটির মূল পিতা এসে দাবি করেছেন খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে তাঁর ছেলেকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। তখন দুই বাবার মধ্যে হাতাহাতি হয়। শিশুটির অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।ফোন নম্বর না থাকায় এ বিষয়ে শিশুটির আসল পিতা সুমনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মনিরামপুর থানার ডিউটি অফিসার সালমা খাতুন বলেন, শিশুটির বাবা-মা থানায় অভিযোগ করতে আসছিল। শিশুটির বমি হচ্ছিল। আমরা বলেছি, শিশুটিকে চিকিৎসা করিয়ে পরে আসতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে পারেননি মনিরামপুর থানার ইনচার্জ (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দীকি।

Related Posts

অজ্ঞান শিশুকে হাসপাতালে ফেলে পালালেন মা ও সৎ বাবা

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি 

৪ অক্টোবর, ২০২২,

৬:৫০ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

যশোরের মনিরামপুরে আবু তালেব (৯) নামে এক শিশুকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছেন মা ও সৎ বাবা। গত সোমবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১০টার দিকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটনাটি ঘটে।আজ (মঙ্গলবার) সকালে গুরুত্বর অসুস্থ শিশুটিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ করা হচ্ছে, শিশুটির মা হিরা খাতুন ও সৎ বাবা উপজেলার মশ্মিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইসলাম গাজী জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। পরে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মনিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি করে পালিয়ে যান তাঁরা।

শিশু আবু তালেবের বাবার নাম সুমন হোসেন। তিনি মশ্মিমনগরের চাকলা গ্রামের বাসিন্দা। ৫ মাস আগে সুমন হোসেনকে তালাক দিয়ে শিশুটির মা হিরা খাতুন ইউপি সদস্য ইসলাম গাজীকে বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী হিরা খাতুন ও শিশুটিকে নিয়ে মনিরামপুর বাজারের দূর্গাপুরে ভাড়া বাসায় ওঠেন মেম্বর।

মনিরামপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ডবয় আক্তার হোসেন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে অজ্ঞান অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনেন ওর বাবা-মা। তারা বলেছেন, জুস খেয়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়েছে। আমরা তাঁকে ভর্তি করে উপরের তলায় পাঠিয়ে দিই। কিছুক্ষণ পরে শিশুটিকে রেখে ওর বাবা-মা চলে যান। রাতে আর তাঁরা ফেরেননি। ভর্তি অন্য রোগীরা শিশুটির দেখভাল করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে ওর বাবা-মা আবার আসেন।

হাসপাতালের একাধিক রোগী জানান, জ্ঞান ফিরলে শিশুটি বলেছে, তাকে জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে চেয়েছিলেন মা ও সৎ বাবা। খেতে না চাওয়ায় শিশুটির গলা টিপে ধরেছিলেন তাঁরা। শিশুটির গলায় টিপে ধরার চিহ্ন আছে।

এদিকে শিশুটির সৎ বাবা ইউপি সদস্য ইসলাম গাজী বলেন, সুমন আমার প্রতিবেশী। ৫ মাস আগে তাঁর স্ত্রী হীরা তাকে তালাক দিয়ে আমাকে বিয়ে করেন। এরপর হীরার ছেলে আবু তালেবকে নিয়ে আমরা মনিরামপুরে ভাড়া বাড়িতে উঠি। এক মাস আগে হিরা আমাকে তালাক দিয়ে নওয়াপাড়ায় বাবার বাড়িতে চলে যান।

ইসলাম গাজী বলেন, আবারও আমার সাথে আসতে চাচ্ছেন হীরা। এ জন্য সোমবার নওয়াপাড়া থেকে ছেলেকে নিয়ে মনিরামপুরে আসছিলেন হীরা। গাড়ির ঝক্কিতে মাথা ঘুরছিল তালেবের। বাসায় আসার পর তাকে জুস খেতে দিই। এরপর মাথাঘুরে পড়ে যায় আবু তালেব। রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে ডাক্তার বলেছিল জ্ঞান ফিরতে সকাল হবে। এজন্য আমরা ওরে হাসপাতালে রেখে বাসায় চলে যাই।
মেম্বর আরো বলেন, সকালে হাসপাতালে গেলে রোগীর স্বজনরা আমাকে মারপিট করে।জুসের সাথে ঘুমের বড়ি খাওয়ানোর বিষয়টি সত্যি না। আমরা সকালে ওরে সদরে ভর্তি করেছি।

এদিকে শিশুটির মা হিরা খাতুন বলেন, আমার স্বামীর নাম সুমন। মেম্বরের কাছে আমার পরিচয়পত্র থেকে গেছে। আইডি কার্ড নিতে ছেলেকে নিয়ে মেম্বরের বাসায় আসি। বাসায় একটা জুস ছিল। তা খাওয়ার পর ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

মনিরামপুর হাসপাতালের প্রধান তন্ময় বিশ্বাস বলেন, বিষাক্ত কিছু খাওয়া পড়েছে বলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চলে যান ওর বাবা-মা। সকালে শিশুটির মূল পিতা এসে দাবি করেছেন খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে তাঁর ছেলেকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। তখন দুই বাবার মধ্যে হাতাহাতি হয়। শিশুটির অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।ফোন নম্বর না থাকায় এ বিষয়ে শিশুটির আসল পিতা সুমনের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মনিরামপুর থানার ডিউটি অফিসার সালমা খাতুন বলেন, শিশুটির বাবা-মা থানায় অভিযোগ করতে আসছিল। শিশুটির বমি হচ্ছিল। আমরা বলেছি, শিশুটিকে চিকিৎসা করিয়ে পরে আসতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যস্ততার কারণে কথা বলতে পারেননি মনিরামপুর থানার ইনচার্জ (ওসি) নূর-ই-আলম সিদ্দীকি।

Related Posts