মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৫:৩৬
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৫:৩৬

গফরগাঁওয়ে প্রতিবেশীর বসতভিটাসহ জমি দখলের অভিযোগ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

২ অক্টোবর, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৮:২৬ pm

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশীর বসত ভিটাসহ প্রায় পাঁচ একর ফসলি জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ভুরাখালী চরে। রোববার (২ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হেলাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১৮ সালে মৃত আবুল কালামকে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় আবুল কালামের মেয়ে সাবিনা আক্তার তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। এই সুযোগে সাবিনা গং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, লুটপাট করে এবং তাদের প্রায় পাঁচ একর ফসলি জমি দখল করে নেয়।

তিনি আরো জানান, কয়েক মাস আগে তাদের পরিবারের সদস্যরা জামিনে মুক্ত হয়ে বসত ঘরে উঠতে গেলে সাবিনা, তাঁর ভাই খোকন, জীবন, নয়ন ও স্বামী নজরুল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তাকে, তার ভাই আলাল উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও কাউসারকে পিটিয়ে জখম করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা ফলজ গাছ কেটে ও বাড়ি ঘর ভাংচুর করে কয়েক। লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিবেশী আত্মীয়দের বাড়িতে বসবাস করে আসছে। এ অবস্থায় সাবিনা গংদের ভয়ে তারা তাদের ফসলি জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। চাষাবাদ করতে গেলেই হামলা করছে। বসত বাড়িতেও থাকতে পারছে না। প্রতিনিয়ত হত্যা করে মৃতদেহ গুমের হুমকি দিচ্ছে। থানায় একাধিক অভিযোগ দিলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে তারা মানবেতন জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় তিনি ন্যায় বিচারসহ বসত বাড়িতে বসবাসের জন্য প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে সাবিনার সাথে যোগযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ৫ একর না তাদের ১ একর জমি পতিত পরে আছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলমান। একাধিকবার শালিস-দরবার করা হলেও সমাধান হয়নি। জমি বেদখলে আছে প্রায় সাড়ে তিন একর, এটা সত্য। আর সাবিনার পিতা আবুল কালামের সাথে জমি নিয়ে হেলালের বিরোধ ছিলো। আবুল কালাম মারা যাওয়ার পর হত্যা মামলা হয়। তবে হেলালের পরিবার বসত ঘরে থাকতে না পেরে ও ফসলি জমির দখল না পাওয়াতে এখন মানবেতর জীবন যাপন যাপন করছে।

গফরগাঁও থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ বলেন, এই বিরোধ দীর্ঘ দিনের। দুই পক্ষ কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি না। থানায় দুই পক্ষের মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে অফিসার ও ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Related Posts

গফরগাঁওয়ে প্রতিবেশীর বসতভিটাসহ জমি দখলের অভিযোগ

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

২ অক্টোবর, ২০২২,

৮:২৬ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশীর বসত ভিটাসহ প্রায় পাঁচ একর ফসলি জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবারটি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের ভুরাখালী চরে। রোববার (২ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে সুবিচার দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হেলাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১৮ সালে মৃত আবুল কালামকে কে বা কারা রাতের অন্ধকারে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় আবুল কালামের মেয়ে সাবিনা আক্তার তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠায়। এই সুযোগে সাবিনা গং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, লুটপাট করে এবং তাদের প্রায় পাঁচ একর ফসলি জমি দখল করে নেয়।

তিনি আরো জানান, কয়েক মাস আগে তাদের পরিবারের সদস্যরা জামিনে মুক্ত হয়ে বসত ঘরে উঠতে গেলে সাবিনা, তাঁর ভাই খোকন, জীবন, নয়ন ও স্বামী নজরুল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে তাকে, তার ভাই আলাল উদ্দিন, জালাল উদ্দিন ও কাউসারকে পিটিয়ে জখম করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা ফলজ গাছ কেটে ও বাড়ি ঘর ভাংচুর করে কয়েক। লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিবেশী আত্মীয়দের বাড়িতে বসবাস করে আসছে। এ অবস্থায় সাবিনা গংদের ভয়ে তারা তাদের ফসলি জমিতে চাষাবাদ করতে পারছে না। চাষাবাদ করতে গেলেই হামলা করছে। বসত বাড়িতেও থাকতে পারছে না। প্রতিনিয়ত হত্যা করে মৃতদেহ গুমের হুমকি দিচ্ছে। থানায় একাধিক অভিযোগ দিলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে তারা মানবেতন জীবন যাপন করছে। এ অবস্থায় তিনি ন্যায় বিচারসহ বসত বাড়িতে বসবাসের জন্য প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে সাবিনার সাথে যোগযোগ করা হলে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ৫ একর না তাদের ১ একর জমি পতিত পরে আছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলমান। একাধিকবার শালিস-দরবার করা হলেও সমাধান হয়নি। জমি বেদখলে আছে প্রায় সাড়ে তিন একর, এটা সত্য। আর সাবিনার পিতা আবুল কালামের সাথে জমি নিয়ে হেলালের বিরোধ ছিলো। আবুল কালাম মারা যাওয়ার পর হত্যা মামলা হয়। তবে হেলালের পরিবার বসত ঘরে থাকতে না পেরে ও ফসলি জমির দখল না পাওয়াতে এখন মানবেতর জীবন যাপন যাপন করছে।

গফরগাঁও থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ বলেন, এই বিরোধ দীর্ঘ দিনের। দুই পক্ষ কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি না। থানায় দুই পক্ষের মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে অফিসার ও ফোর্স পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Related Posts