শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, সন্ধ্যা ৭:০২
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,সন্ধ্যা ৭:০২

বাঁধ ভেঙ্গে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

১৫ জুলাই, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

১১:৫৯ pm

পায়রা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে ৮ গ্রামসহ বরগুনার আমতলী ও তালতলীর নদী তীরবর্তী অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আউশের ধান ও আমনের বীজতলা। তালতলীতে ভেসে গেছে অর্ধশতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুর্ভোগে পরেছে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

জানা গেছে, পূর্ণিমার জোঁয়ারের প্রভাবে পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪৩ সেন্টিমিটার বেশি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে তেতুলবাড়িয়া, গোরাপাড়া, খারাকান্দা, সনবুনিয়া, ফুলুপাড় ও নলবুনিয়া সাইক্লোন সেল্টারসহ ৮ গ্রাম ৪ দিন ধরে প্রতিদিন দু’বার করে জোয়ারের পানিতে ভাসছে।

তেতুলবাড়িয়া গ্রামের চম্পাভানু, শিরিন বেগম বলেন, ‘এই চার দিন ধইর‌্যা পানি উইঠ্যা চুলা ডুইব্যা যাওয়ায় দুপুরে পোলা মাইয়া লইয়া খাইতে পরি নাই।’

একই গ্রামের মনির হাওলাদার বলেন, ‘জোয়ারের পানির তোরে মোর জাল ভাসাইয়া লইয়া গ্যাছে। হেতে মোর ২ লক্ষ টাহা ক্ষতি অইছে। একই

হাবিব আকন বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে মোর ঘেরের ২ লক্ষ টাকার মাছ ভাইস্যা গ্যাছে।’

এদিকে, উপকুলীয় আমতলী ও তালতলীর নদী তীরবর্তী অর্ধশতাধিক গ্রামও ৪ দিন ধরে প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। জোয়ারে পানিতে একাকার হয়ে আমতলী ও তালতলীর মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। নদী তীরবর্তী মাঠ-ঘাট তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে আউশের ধান ক্ষেত ও আমনের বীজতলা। দ্রুত পানি না কমলে আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

অন্যদিকে, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে আমতলীর উপজেলার ঘোপখালী, বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম আমতলী, ফেরীঘাট, পুরাতন লঞ্চঘাট, আমুয়ার চর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা, আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালী ও হরিদ্রবাড়িয়া তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, ফকিরহাট, সোনাকাটা, নিদ্রাসকিনা, তেতুঁলবাড়িয়া, আশারচর, নলবুনিয়া, তালুকদারপাড়া, চরপাড়া, গাবতলী, মৌপাড়া, ছোটবগী, জয়ালভাঙ্গা ও পচাঁকোড়ালিয়াসহ আরো অনেক নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম ঘটখালী, গুলিশাখালী ও হরিদ্রবাড়িয়া এলাকার পায়রা সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ না থাকায় গাজীপুর বন্দর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন দেওয়ান।

আমতলী উপজেলার গেজ পাঠক (পানি মাপক) আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্রবার পয়রা নদীর পানি বিপদ সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, যে সকল জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে সেগুলো সংস্কার এবং তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বাঁধ দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts

বাঁধ ভেঙ্গে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

১৫ জুলাই, ২০২২,

১১:৫৯ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

পায়রা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে ৮ গ্রামসহ বরগুনার আমতলী ও তালতলীর নদী তীরবর্তী অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আউশের ধান ও আমনের বীজতলা। তালতলীতে ভেসে গেছে অর্ধশতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ। এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দুর্ভোগে পরেছে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

জানা গেছে, পূর্ণিমার জোঁয়ারের প্রভাবে পায়রা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪৩ সেন্টিমিটার বেশি পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে তেতুলবাড়িয়া, গোরাপাড়া, খারাকান্দা, সনবুনিয়া, ফুলুপাড় ও নলবুনিয়া সাইক্লোন সেল্টারসহ ৮ গ্রাম ৪ দিন ধরে প্রতিদিন দু’বার করে জোয়ারের পানিতে ভাসছে।

তেতুলবাড়িয়া গ্রামের চম্পাভানু, শিরিন বেগম বলেন, ‘এই চার দিন ধইর‌্যা পানি উইঠ্যা চুলা ডুইব্যা যাওয়ায় দুপুরে পোলা মাইয়া লইয়া খাইতে পরি নাই।’

একই গ্রামের মনির হাওলাদার বলেন, ‘জোয়ারের পানির তোরে মোর জাল ভাসাইয়া লইয়া গ্যাছে। হেতে মোর ২ লক্ষ টাহা ক্ষতি অইছে। একই

হাবিব আকন বলেন, ‘জোয়ারের পানিতে মোর ঘেরের ২ লক্ষ টাকার মাছ ভাইস্যা গ্যাছে।’

এদিকে, উপকুলীয় আমতলী ও তালতলীর নদী তীরবর্তী অর্ধশতাধিক গ্রামও ৪ দিন ধরে প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে আমতলী ও তালতলী উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। জোয়ারে পানিতে একাকার হয়ে আমতলী ও তালতলীর মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে। নদী তীরবর্তী মাঠ-ঘাট তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে আউশের ধান ক্ষেত ও আমনের বীজতলা। দ্রুত পানি না কমলে আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পঁচে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

অন্যদিকে, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে আমতলীর উপজেলার ঘোপখালী, বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম আমতলী, ফেরীঘাট, পুরাতন লঞ্চঘাট, আমুয়ার চর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা, আঙ্গুলকাটা, গুলিশাখালী ও হরিদ্রবাড়িয়া তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, ফকিরহাট, সোনাকাটা, নিদ্রাসকিনা, তেতুঁলবাড়িয়া, আশারচর, নলবুনিয়া, তালুকদারপাড়া, চরপাড়া, গাবতলী, মৌপাড়া, ছোটবগী, জয়ালভাঙ্গা ও পচাঁকোড়ালিয়াসহ আরো অনেক নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

এছাড়া ঝুঁকিতে রয়েছে বালিয়াতলী, পশুরবুনিয়া, আড়পাঙ্গাশিয়া, পশ্চিম ঘটখালী, গুলিশাখালী ও হরিদ্রবাড়িয়া এলাকার পায়রা সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ।

বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ না থাকায় গাজীপুর বন্দর জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বাতেন দেওয়ান।

আমতলী উপজেলার গেজ পাঠক (পানি মাপক) আবুল কালাম আজাদ জানান, শুক্রবার পয়রা নদীর পানি বিপদ সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, যে সকল জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দুর্বল হয়ে গেছে সেগুলো সংস্কার এবং তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বাঁধ দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts