মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৫:০৭
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৫:০৭

তিনশ মিটার সড়কে ১১ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার

১৪ জুলাই, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৭:৫৮ pm

যশোরের বাঘারপাড়ায় মাত্র তিনশ মিটার সড়ক বেহালদশার কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন ১১ গ্রামের মানুষ। উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ভিটাবল্লা থেকে হাতিয়াড়া মোড় (নড়াইল সদর উপজেলার হাতিয়াড়া মোড়) সড়কের শেষ পূর্ব অংশের ৩শ’ মিটারের এই ভঙ্গুর সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। নির্মাণের ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সংস্কার হয়নি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই অংশটি।

সড়কের নিয়মিত চলাচলকারী অঙ্কিতা ভৌমিক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাড়ি ঘোড়ানাছ গ্রামে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বাইসাইকেলে করে স্কুলে যাতায়াত করি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া গর্তে জল জমে যায়।তাই গর্তের জায়গাটার গভীরতা বোঝা যায় না। এ রকম পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে গেছে বহুবার। স্কুলে যাওয়া সে দিন আর হয়নি’।

নড়াইল সদর উপজেলার গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরিক্ষার্থী ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ঘোরানাছ গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতা ভৌমিকের সাখে সুর মেলান বাকড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রীনা বিশ্বাস।

তিনি বলেন, বাকড়ী গ্রাম থেকে ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করি। এতটুকু সড়কের চার জায়গায় গর্তের কারণে অনেক ভ্যান চালক যেতে চায় না। তাই অনেক সময় পায়ে হেঁটে সময়মত স্কুলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না’।

অপরদিকে বেনাহাটি গ্রামের কৃষক পলাশ ঘোষ জানান, ‘তিনি প্রতি হাটে বাকড়ীর নতুন হাটে সবজী নিয়ে আসেন। ভাঙ্গা রাস্তার তার ভ্যান উল্টে প্রায়ই সবজী নষ্ট হয়ে যায়।

যশোরের বাঘারপাড়া ও নড়াইল সদর উপজেলার ১১টি (ঘোড়ানাছ, দোগাছি,কমলাপুর, রঘুরামপুর, বাকড়ী, কিসমত বাকড়ী, গুয়াখোলা, হাতিয়াড়া, বাকলী, মালিয়াট ও বেনাহাটি) গ্রাম এগারোখান। এই এগাখানের বাকড়ীতে শতাব্দী প্রাচীন ‘নতুন হাট’ নামে একটি হাট রয়েছে। যেখানে প্রতি বুধ ও রবিবার হাট বসে। প্রতি হাটে ১১ গ্রামের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে হাটে আসতে ভোগান্তিতে পড়েন।

এছাড়াও এ এলাকায় পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক ও চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব স্কুলে এগারোখানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা বাইসাইকেলে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে স্কুলেই পৌঁছানো সম্ভব হয় না শিশু শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বেহাল সড়কের কারণে সমস্যায় রয়েছেন এ এলাকার কৃষকেরা। তারা তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা থেকে শুরু করে হাটে নেওয়ার সময়ও ঘটে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের ৩শ’ মিটার পাকা সড়কের চার জায়গায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে ৮ ফুট প্রস্তের এই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়াড়া মোড় থেকে ভিটাবল্লা পর্যন্ত পাকা সড়কটির দৈর্ঘ্য সাত কিলোমিটার। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থবছরে কয়েকটি ধাপে শেষ হয় এ সড়কটি। এরপর ২০২০ সালে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ভিটাবল্লা থেকে বাকড়ীর ঘোষবাড়ি পর্যন্ত সংস্কার হলেও অদৃশ্য কারণে শেষ ৩শ’ মিটার সড়কে সংস্কারের কাজ বাকি রয়ে যায়।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান জানান, আগামী অর্থ বছরে রাস্তাটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। প্রতি বছর রাস্তা সংস্কার বাবদ উপজেলায় যে বরাদ্দ থাকে সেটা অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেই টাকা শেষ হয়ে যায়। তাই ৩শ’ মিটার সড়কের কাজ হয়নি।

Related Posts

তিনশ মিটার সড়কে ১১ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার

১৪ জুলাই, ২০২২,

৭:৫৮ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

যশোরের বাঘারপাড়ায় মাত্র তিনশ মিটার সড়ক বেহালদশার কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন ১১ গ্রামের মানুষ। উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ভিটাবল্লা থেকে হাতিয়াড়া মোড় (নড়াইল সদর উপজেলার হাতিয়াড়া মোড়) সড়কের শেষ পূর্ব অংশের ৩শ’ মিটারের এই ভঙ্গুর সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। নির্মাণের ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও সংস্কার হয়নি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই অংশটি।

সড়কের নিয়মিত চলাচলকারী অঙ্কিতা ভৌমিক নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার বাড়ি ঘোড়ানাছ গ্রামে। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে বাইসাইকেলে করে স্কুলে যাতায়াত করি। বৃষ্টি হলেই রাস্তায় সৃষ্টি হওয়া গর্তে জল জমে যায়।তাই গর্তের জায়গাটার গভীরতা বোঝা যায় না। এ রকম পরিস্থিতিতে পড়ে গিয়ে বই-খাতা ভিজে গেছে বহুবার। স্কুলে যাওয়া সে দিন আর হয়নি’।

নড়াইল সদর উপজেলার গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এসএসসি পরিক্ষার্থী ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ঘোরানাছ গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতা ভৌমিকের সাখে সুর মেলান বাকড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রীনা বিশ্বাস।

তিনি বলেন, বাকড়ী গ্রাম থেকে ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করি। এতটুকু সড়কের চার জায়গায় গর্তের কারণে অনেক ভ্যান চালক যেতে চায় না। তাই অনেক সময় পায়ে হেঁটে সময়মত স্কুলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না’।

অপরদিকে বেনাহাটি গ্রামের কৃষক পলাশ ঘোষ জানান, ‘তিনি প্রতি হাটে বাকড়ীর নতুন হাটে সবজী নিয়ে আসেন। ভাঙ্গা রাস্তার তার ভ্যান উল্টে প্রায়ই সবজী নষ্ট হয়ে যায়।

যশোরের বাঘারপাড়া ও নড়াইল সদর উপজেলার ১১টি (ঘোড়ানাছ, দোগাছি,কমলাপুর, রঘুরামপুর, বাকড়ী, কিসমত বাকড়ী, গুয়াখোলা, হাতিয়াড়া, বাকলী, মালিয়াট ও বেনাহাটি) গ্রাম এগারোখান। এই এগাখানের বাকড়ীতে শতাব্দী প্রাচীন ‘নতুন হাট’ নামে একটি হাট রয়েছে। যেখানে প্রতি বুধ ও রবিবার হাট বসে। প্রতি হাটে ১১ গ্রামের মানুষ এ রাস্তা দিয়ে হাটে আসতে ভোগান্তিতে পড়েন।

এছাড়াও এ এলাকায় পাঁচটি সরকারি প্রাথমিক ও চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব স্কুলে এগারোখানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা বাইসাইকেলে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে গিয়ে স্কুলেই পৌঁছানো সম্ভব হয় না শিশু শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বেহাল সড়কের কারণে সমস্যায় রয়েছেন এ এলাকার কৃষকেরা। তারা তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলা থেকে শুরু করে হাটে নেওয়ার সময়ও ঘটে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের ৩শ’ মিটার পাকা সড়কের চার জায়গায় গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে ৮ ফুট প্রস্তের এই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাতিয়াড়া মোড় থেকে ভিটাবল্লা পর্যন্ত পাকা সড়কটির দৈর্ঘ্য সাত কিলোমিটার। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থবছরে কয়েকটি ধাপে শেষ হয় এ সড়কটি। এরপর ২০২০ সালে সংস্কারের কাজ শুরু হয়। ভিটাবল্লা থেকে বাকড়ীর ঘোষবাড়ি পর্যন্ত সংস্কার হলেও অদৃশ্য কারণে শেষ ৩শ’ মিটার সড়কে সংস্কারের কাজ বাকি রয়ে যায়।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান জানান, আগামী অর্থ বছরে রাস্তাটি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে। প্রতি বছর রাস্তা সংস্কার বাবদ উপজেলায় যে বরাদ্দ থাকে সেটা অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেই টাকা শেষ হয়ে যায়। তাই ৩শ’ মিটার সড়কের কাজ হয়নি।

Related Posts