মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৪:১৭
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৪:১৭

বোয়ালমারী থানার ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

৮ জুলাই, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৩:৪১ pm

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাবা-ছেলের ঝামেলা মিমাংসায় অভিযুক্ত ছেলেকে থানায় ডেকে আনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেছে মাসুদ আলম নামের এক ব্যবসায়ী (ছেলে)। এ ব্যাপারে গত বুধবার (০৬ জুলাই) পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ সুপার বরাবর ন্যায় বিচারের জন্য লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন পৌর সদরের রেলষ্টেশন রোডের মহু মার্কেটের ব্যবসায়ী মাসুদ আলম।

তার বাবা উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের দু’বারের সাবেক চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন। তবে ঘটনার সময উপস্থিত বাবা হেমায়েত হোসেন ওসির বিরুদ্ধে ছেলের অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওসি সাহেব তলব করেছেন বলে থানার উপপরিদর্শক মামুন অর রশিদ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসুদ আলম নামের ব্যবসায়ীকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় পৌঁছানোর পর ওসি আব্দুল ওহাব মাসুদের নাম ঠিকানা জানতে চায়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) ও দরজা বন্ধ করে মোটা বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করে মাসুদ আলমকে। এ সময় তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওসি অভিযোগে সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনকালে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোরও ভয় দেখানোর পরে মাসুদ আলম তার স্ত্রীকে খবর দিলে স্ত্রী এক লাখ টাকা ওসিকে দিয়ে স্বামীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ওইদিন থানা থেকে বের হয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন ব্যবসায়ী মাসুদ আলম।

এ ব্যাপারে মাসুদ জানান, আমার বাবা হেমায়েত হোসেনের সাথে আমার দাদাকর্তৃক আমাকে দলিলের একটি জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। মনে হচ্ছে তিনি (বাবা) আদালতে সুবিধা না করতে পেরে স্বার্থ হাসিলের জন্য ওসিকে দিয়ে আমাকে নাজেহাল করাতেই থানায় অভিযোগ করেছেন। সেই কারণে ওসি সাহেব থানায় ডেকে নিয়ে আমাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বেতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের সময় আমার চিৎকার থানার উপস্থিত সবাই কম বেশি শুনতে পেয়েছে।

ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা নুসরাত জানান, দুপুরের দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মাসুদ আলম নামের একজন চিকিৎসা নিতে এসছিল। তার হাতে-পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে কিসের আঘাত সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি তিনি।

তবে ব্যবসায়ীর অভিযোগ অস্বীকার করে বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, মাসুদ আলমের বাবার সাথে একটা বিষয় নিয়ে তাদের ঝামেলা চলছে। মাসুদের বাবা হেমায়েত হোসেন রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থানায় অভিযোগ করায় মাসুদকে থানায় ডেকেছিলাম; সে সময় তার বাবাও উপস্থিত ছিলেন। বাবা-ছেলের মধ্যে ঝামেলা মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি মাত্র। বিষয়টি নিয়ে মাসুদ কোনরকম ছাড় দিতে অস্বীকার করলে উভয়কে আদালতে যেতে বলি। ছেলেকে বলেছি বাবার কাছে মাফ চাইলে আল্লাহও আপনাকে মাফ করে দিবেন। পরে বাবা-ছেলে থানা থেকে চলে যায়।

শুক্রবার (০৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিযে ব্যবসায়ী মাসুদের বাবা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি চারিদিককে বলেন, মাসুদ আমার বড় ছেলে। বাবার সামনে ছেলেকে মারধর এটা কোন বাবাই মেনে নেয় না। মাসুদ আমার জমি থেকে পাট কাটাসহ বির্ভিন্ন ভাবে আমাকে নাজেহাল করছে। ছেলের সাথে বিরোধের বিষয়টি ওসি সাহেবকে বললে সে মাসুদকে ডেকে জমি ফেরত দেওয়াসহ আমার কাছে মাফ চাইতে বলেন। এর বাইরে কোন ঘটনা ওইদিন ঘটেনি। আমার ছেলে ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আল্লাহ ওকে মাফ করবে না।

দুপুরে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর বলেন, ব্যবসায়ী মাসুূদ আলম ফোন করায় বিষয়টি জানতে পারি। তাৎক্ষণিক বোয়ালমারীর ওসির কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে; ওসি বলেন, মাসুদের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে থানায় ডেকে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদাবাজির কোন ঘটনা ঘটেনি। মাসুদ আলমের অভিযোগ প্রমানিত হলে ওসির বিরুদ্ধে ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন।

Related Posts

বোয়ালমারী থানার ওসির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

৮ জুলাই, ২০২২,

৩:৪১ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাবা-ছেলের ঝামেলা মিমাংসায় অভিযুক্ত ছেলেকে থানায় ডেকে আনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ করেছে মাসুদ আলম নামের এক ব্যবসায়ী (ছেলে)। এ ব্যাপারে গত বুধবার (০৬ জুলাই) পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও পুলিশ সুপার বরাবর ন্যায় বিচারের জন্য লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন পৌর সদরের রেলষ্টেশন রোডের মহু মার্কেটের ব্যবসায়ী মাসুদ আলম।

তার বাবা উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের দু’বারের সাবেক চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেন। তবে ঘটনার সময উপস্থিত বাবা হেমায়েত হোসেন ওসির বিরুদ্ধে ছেলের অভিযোগ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওসি সাহেব তলব করেছেন বলে থানার উপপরিদর্শক মামুন অর রশিদ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে মাসুদ আলম নামের ব্যবসায়ীকে গাড়িতে করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় পৌঁছানোর পর ওসি আব্দুল ওহাব মাসুদের নাম ঠিকানা জানতে চায়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে অফিসের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) ও দরজা বন্ধ করে মোটা বেত দিয়ে বেধড়ক মারধর করে মাসুদ আলমকে। এ সময় তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওসি অভিযোগে সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনকালে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোরও ভয় দেখানোর পরে মাসুদ আলম তার স্ত্রীকে খবর দিলে স্ত্রী এক লাখ টাকা ওসিকে দিয়ে স্বামীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ওইদিন থানা থেকে বের হয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন ব্যবসায়ী মাসুদ আলম।

এ ব্যাপারে মাসুদ জানান, আমার বাবা হেমায়েত হোসেনের সাথে আমার দাদাকর্তৃক আমাকে দলিলের একটি জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। মনে হচ্ছে তিনি (বাবা) আদালতে সুবিধা না করতে পেরে স্বার্থ হাসিলের জন্য ওসিকে দিয়ে আমাকে নাজেহাল করাতেই থানায় অভিযোগ করেছেন। সেই কারণে ওসি সাহেব থানায় ডেকে নিয়ে আমাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বেতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের সময় আমার চিৎকার থানার উপস্থিত সবাই কম বেশি শুনতে পেয়েছে।

ঘটনার দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. ফাতেমা নুসরাত জানান, দুপুরের দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মাসুদ আলম নামের একজন চিকিৎসা নিতে এসছিল। তার হাতে-পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে কিসের আঘাত সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেননি তিনি।

তবে ব্যবসায়ীর অভিযোগ অস্বীকার করে বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, মাসুদ আলমের বাবার সাথে একটা বিষয় নিয়ে তাদের ঝামেলা চলছে। মাসুদের বাবা হেমায়েত হোসেন রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থানায় অভিযোগ করায় মাসুদকে থানায় ডেকেছিলাম; সে সময় তার বাবাও উপস্থিত ছিলেন। বাবা-ছেলের মধ্যে ঝামেলা মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি মাত্র। বিষয়টি নিয়ে মাসুদ কোনরকম ছাড় দিতে অস্বীকার করলে উভয়কে আদালতে যেতে বলি। ছেলেকে বলেছি বাবার কাছে মাফ চাইলে আল্লাহও আপনাকে মাফ করে দিবেন। পরে বাবা-ছেলে থানা থেকে চলে যায়।

শুক্রবার (০৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিযে ব্যবসায়ী মাসুদের বাবা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হেমায়েত হোসেনের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি চারিদিককে বলেন, মাসুদ আমার বড় ছেলে। বাবার সামনে ছেলেকে মারধর এটা কোন বাবাই মেনে নেয় না। মাসুদ আমার জমি থেকে পাট কাটাসহ বির্ভিন্ন ভাবে আমাকে নাজেহাল করছে। ছেলের সাথে বিরোধের বিষয়টি ওসি সাহেবকে বললে সে মাসুদকে ডেকে জমি ফেরত দেওয়াসহ আমার কাছে মাফ চাইতে বলেন। এর বাইরে কোন ঘটনা ওইদিন ঘটেনি। আমার ছেলে ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। আল্লাহ ওকে মাফ করবে না।

দুপুরে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) সুমন কর বলেন, ব্যবসায়ী মাসুূদ আলম ফোন করায় বিষয়টি জানতে পারি। তাৎক্ষণিক বোয়ালমারীর ওসির কাছে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে; ওসি বলেন, মাসুদের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে থানায় ডেকে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদাবাজির কোন ঘটনা ঘটেনি। মাসুদ আলমের অভিযোগ প্রমানিত হলে ওসির বিরুদ্ধে ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিবেন।

Related Posts