মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৪:২৪
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৪:২৪

ছুরি-চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত আমতলী-তালতলীর কামাররা

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

৭ জুলাই, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৩:২৯ pm

কামারপাড়াগুলোতে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে, আর মাত্র দু’দিন পরেই ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, কুঠার, ছেনি, চাপাতি, কাটারি ও ছুরি  তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। দিন-রাত টুং টাং শব্দে লোহার যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কামার শিল্পীরা। এতটুকুও ফরসুত নেই তাদের।

কোরবানির গবাদিপশু জবাই করতে এবং মাংস তৈরিতে দা, কুঠার, ছুরি, চাপাতি ও কাটারি বেশি প্রয়োজন। ওই সকল যন্ত্রপাতি তৈরিতে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের কামার পাড়ায় দিন-রাত টুংটং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দম ফেলারও সময় নেই কামারপাড়ার শিল্পীদের। দিন-রাত সমানতালে লোহার টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে দু’উপজেলার প্রতিটি কামারপাড়া।

পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ঢু মারছেন। আবার কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন।

অপরদিকে প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানান কামার শিল্পীরা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প।

শান দেয়া নতুন দা, বটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। ভিতরে চলছে কাজ। জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখেমুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই কামার শিল্পীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কাজের ব্যস্ততা। বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদ এলে তাদেরও কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিন-রাত কাজ করেও অবসর পাওয়া যায় না।

আমতলী উপজেলার গাজীপুর বাজারের মিলন কর্মকার বলেন, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পেশায় আছি। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পাইকারী দোকানদার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালোই থাকে। তবে করোনার প্রভাবে এখনো পর্যন্ত সেই রকম কাজের চাপ না থাকলেও আশা করছি চাহিদা আরো বাড়বে।

আমতলী ও তালতলী উপজেলার একাধিক কারিগররা জানান, ঈদুল-আজহাকে সামনে রেখে দু’উপজেলার কামার শিল্পীরা মোটামুটি ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায় গ্রাম বাংলার কামার শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তারা।

Related Posts

ছুরি-চাপাতি তৈরিতে ব্যস্ত আমতলী-তালতলীর কামাররা

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

৭ জুলাই, ২০২২,

৩:২৯ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

কামারপাড়াগুলোতে টুং টাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে, আর মাত্র দু’দিন পরেই ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, কুঠার, ছেনি, চাপাতি, কাটারি ও ছুরি  তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। দিন-রাত টুং টাং শব্দে লোহার যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যস্ত কামার শিল্পীরা। এতটুকুও ফরসুত নেই তাদের।

কোরবানির গবাদিপশু জবাই করতে এবং মাংস তৈরিতে দা, কুঠার, ছুরি, চাপাতি ও কাটারি বেশি প্রয়োজন। ওই সকল যন্ত্রপাতি তৈরিতে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের কামার পাড়ায় দিন-রাত টুংটং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখন দম ফেলারও সময় নেই কামারপাড়ার শিল্পীদের। দিন-রাত সমানতালে লোহার টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে দু’উপজেলার প্রতিটি কামারপাড়া।

পশু কোরবানির দা, ছুরি ও চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামারপাড়ায় ঢু মারছেন। আবার কেউ কেউ পুরানো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন।

অপরদিকে প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, আর্থিক সংকটসহ নানা কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমেছে বলেও জানান কামার শিল্পীরা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প।

শান দেয়া নতুন দা, বটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। ভিতরে চলছে কাজ। জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখেমুখে প্রচন্ড ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই কামার শিল্পীরা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কাজের ব্যস্ততা। বছরের অন্য দিনগুলোতে তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদ এলে তাদেরও কাজের চাপ বেড়ে যায়। দিন-রাত কাজ করেও অবসর পাওয়া যায় না।

আমতলী উপজেলার গাজীপুর বাজারের মিলন কর্মকার বলেন, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পেশায় আছি। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে পাইকারী দোকানদার ও খুচরা ক্রেতাদের কাছে এই সময়ে আমাদের কদর বেশ ভালোই থাকে। তবে করোনার প্রভাবে এখনো পর্যন্ত সেই রকম কাজের চাপ না থাকলেও আশা করছি চাহিদা আরো বাড়বে।

আমতলী ও তালতলী উপজেলার একাধিক কারিগররা জানান, ঈদুল-আজহাকে সামনে রেখে দু’উপজেলার কামার শিল্পীরা মোটামুটি ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটায় গ্রাম বাংলার কামার শিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান তারা।

Related Posts