মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, বিকাল ৫:৪৪
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,বিকাল ৫:৪৪

মরিচ ও হলুদের গুঁড়ার ঝাঁজে অতিষ্ঠ পৌরবাসী

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

৬ জুলাই, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

১০:৪৯ pm

বরগুনার আমতলী পৌর শহরে পরিবেশ আইন অমান্য করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর মিল স্থাপন করার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, পৌর এলাকার নতুন বাজার বটতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জনবহুল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়ে ব্যক্তি মালিকানায় বেশ কয়েকটি হলুদ ও মরিচ ভাঙানো মিল স্থাপন করা হয়েছে। সোহরাফ, আলাল ও খালেক আকনের মালিকানাধীন মিলে প্রকাশ্য রাস্তার পাশে বসে হলুদ মরিচ ভাঙ্গানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ, দূরপাল্লার বাসের সকল কাউন্টার ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলরত ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত বটতলা এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে থাকে।

এতে প্রতিদিন ওই এলাকা দিয়ে চলাচলরতদের মিলে ভাঙ্গা হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার গন্ধে হাঁচি-কাশি ও বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না শিশু, বৃদ্ধ, কোমলমতি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা।

আমতলী সরকারি একে পাইলট হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, প্রতিদিন হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে বটতলা এলাকা পার হয়ে আমার মত অনেক শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। হাত ও মুখমন্ডলে অনেক জ্বালাতন করে এবং অনেক হাচি-কাঁশি পায়।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সোলায়মান মিয়া বলেন, গন্ধ শুকতে শুকতে আমাদের এখন সয়ে গেছে। প্রথম দিকে সর্দি ও হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে ছিলাম। চোখ ও মুখমন্ডল জ্বালাতন থেকে রক্ষা পেতে সবসময় মাথায় হেলমেট পরিধান করে থাকি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বটতলা এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ওই মিলগুলোতে হলুদ ও মরিচ ভাঙ্গে। এর গন্ধে আমাদের ব্যবসায়ীদের মুখে মাস্ক ও কাপড় বেঁধে বেচাকেনা করতে হচ্ছে। আমরা মিলগুলো অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার বলেন, হলুদ ও মরিচের মিলগুলোর কারণে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা বটতলা দিয়ে চলাচল করতে পারছেনা। তারা বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ওই মিলগুলো অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মিল মালিক খালেক আকন জানান, মোগো তো এই খানে (বটতলা) মিল স্থাপন ও হলুদ মরিচ ভাংতে কেহ নিষেধ করে নাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মিলে ভাঙ্গানো হলুদ ও মরিচের গুঁড়ার গন্ধে এলাকাবাসী ও পথচারী (এ্যাজমা রোগীদের) হাচি-কাঁশিসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া জনবসতিপূর্ণ স্থানে এই ধরনের মিল স্থাপন করা হয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (উপ-সচিব) আব্দুল হালিম মুঠোফোনে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হলুদ ও মরিচ ভাঙ্গানোর মিল স্থাপন করা যাবে না। সরেজমিন পরিদর্শন করে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Related Posts

মরিচ ও হলুদের গুঁড়ার ঝাঁজে অতিষ্ঠ পৌরবাসী

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী

৬ জুলাই, ২০২২,

১০:৪৯ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

বরগুনার আমতলী পৌর শহরে পরিবেশ আইন অমান্য করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর মিল স্থাপন করার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, পৌর এলাকার নতুন বাজার বটতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জনবহুল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি না নিয়ে ব্যক্তি মালিকানায় বেশ কয়েকটি হলুদ ও মরিচ ভাঙানো মিল স্থাপন করা হয়েছে। সোহরাফ, আলাল ও খালেক আকনের মালিকানাধীন মিলে প্রকাশ্য রাস্তার পাশে বসে হলুদ মরিচ ভাঙ্গানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ওই এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ, দূরপাল্লার বাসের সকল কাউন্টার ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলরত ভাড়ায় চালিত একটি মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাসহ পৌর শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত বটতলা এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে থাকে।

এতে প্রতিদিন ওই এলাকা দিয়ে চলাচলরতদের মিলে ভাঙ্গা হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার গন্ধে হাঁচি-কাশি ও বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না শিশু, বৃদ্ধ, কোমলমতি শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা।

আমতলী সরকারি একে পাইলট হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, প্রতিদিন হলুদ ও মরিচ গুঁড়ার গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে বটতলা এলাকা পার হয়ে আমার মত অনেক শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হচ্ছে। হাত ও মুখমন্ডলে অনেক জ্বালাতন করে এবং অনেক হাচি-কাঁশি পায়।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সোলায়মান মিয়া বলেন, গন্ধ শুকতে শুকতে আমাদের এখন সয়ে গেছে। প্রথম দিকে সর্দি ও হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে ছিলাম। চোখ ও মুখমন্ডল জ্বালাতন থেকে রক্ষা পেতে সবসময় মাথায় হেলমেট পরিধান করে থাকি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বটতলা এলাকার একাধিক ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ওই মিলগুলোতে হলুদ ও মরিচ ভাঙ্গে। এর গন্ধে আমাদের ব্যবসায়ীদের মুখে মাস্ক ও কাপড় বেঁধে বেচাকেনা করতে হচ্ছে। আমরা মিলগুলো অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আমতলী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম জুয়েল তালুকদার বলেন, হলুদ ও মরিচের মিলগুলোর কারণে সাধারণ মানুষ ও পথচারীরা বটতলা দিয়ে চলাচল করতে পারছেনা। তারা বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। জরুরী ভিত্তিতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে ওই মিলগুলো অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মিল মালিক খালেক আকন জানান, মোগো তো এই খানে (বটতলা) মিল স্থাপন ও হলুদ মরিচ ভাংতে কেহ নিষেধ করে নাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় মিলে ভাঙ্গানো হলুদ ও মরিচের গুঁড়ার গন্ধে এলাকাবাসী ও পথচারী (এ্যাজমা রোগীদের) হাচি-কাঁশিসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একেএম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া জনবসতিপূর্ণ স্থানে এই ধরনের মিল স্থাপন করা হয়ে থাকলে তদন্তপূর্বক মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (উপ-সচিব) আব্দুল হালিম মুঠোফোনে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হলুদ ও মরিচ ভাঙ্গানোর মিল স্থাপন করা যাবে না। সরেজমিন পরিদর্শন করে মিল মালিকদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Related Posts