শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, বিকাল ৫:৩৫
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,বিকাল ৫:৩৫

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ ও ফসলি জমি

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা

৪ জুলাই, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৮:১৪ pm

বাগেরহাটের শরণখোলায় নিষিদ্ধ বরিং ড্রেজার (স্থানীয় নাম আত্মঘাতী ড্রেজার) দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সমতল ফসলি জমি, পুকুর ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে পরিবেশ।

সোমবার (০৪ জুলাই) উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য নলবুনিয়া গ্রামের ফসলি জমি থেকে বরিং ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উত্তোলনকৃত বালু দিয়ে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরের একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই বালু উত্তোলন। ওই গ্রামের ধলু হাওলাদারের ছেলে প্রভাবশালী রমজান হাওলাদার ও সোহাগ হাওলাদার অন্যের জমি থেকে জোরপূর্ব বালু তুলছেন বলে অভিযোগ করেছেন জমির প্রকৃত মালিকেরা। আত্মঘাতী এই ড্রেজার দিয়ে সমতল মাটির তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি দেবে যাওয়াসহ আশপাশের পরিবেশেরও ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জমির মালিক ইব্রাহীম হাওলাদার, জলিল হাওলাদার, খলিল হাওলাদার, লুৎফর হাওলাদার ও লোকমান হাওলাদার জানান, যে জমি থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেই জমিসহ আশপাশের সমস্ত জমি তাদের। সেই জমিতে ১০-১২ দিন আগে স্থানীয় প্রভাবশালী রমজান ও সোহাগ জোরপূর্বক আত্মঘাতী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা শুরু করেন। পরে শরণখোলা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আইন অমান্য করে আজ (সোমবার) সকাল থেকে আবার বালু উত্তোলন শুরু করেন।

জমির মালিকেরা জানান, তাদের জমি থেকে বালু তুলে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরের বিশাল পুকুর ভরাট করছেন তারা। বালু তোলার কারণে জমির তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বিশাল এলাকা নিয়ে জমি দেবে যেতে পারে। বালু তোলা বন্ধ করতে বললে তারা কোনো কথাই শুনছেন না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

জানতে চাইলে বালু উত্তোলনকারী রমজান হাওলাদার জানান, যেখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেই জমির মালিক তারা। তাদের জমি থেকেই তারা বালু তুলে পুকুর ভরাট করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন তালুকদার বলেন, বরিং ড্রেজার পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। স্যালো মেশিনের মাধ্যমে কম্পন সৃষ্টি করে বালু তোলার ফলে মাটির তলদেশে ফাঁকা হয়ে যায়। এতে বড় ধরণের ভূমি ধসের আশঙ্কা দেখা দেবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী এই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এসব ড্রেজার দ্রুত বন্ধ করা উচিৎ।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, এ ব্যাপারে অবৈধ ড্রেজার মালিক ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts

ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ ও ফসলি জমি

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা

৪ জুলাই, ২০২২,

৮:১৪ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

বাগেরহাটের শরণখোলায় নিষিদ্ধ বরিং ড্রেজার (স্থানীয় নাম আত্মঘাতী ড্রেজার) দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূ-গর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সমতল ফসলি জমি, পুকুর ও খাল থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে পরিবেশ।

সোমবার (০৪ জুলাই) উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য নলবুনিয়া গ্রামের ফসলি জমি থেকে বরিং ড্রেজার দিয়ে বালু তোলার এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উত্তোলনকৃত বালু দিয়ে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরের একটি পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই বালু উত্তোলন। ওই গ্রামের ধলু হাওলাদারের ছেলে প্রভাবশালী রমজান হাওলাদার ও সোহাগ হাওলাদার অন্যের জমি থেকে জোরপূর্ব বালু তুলছেন বলে অভিযোগ করেছেন জমির প্রকৃত মালিকেরা। আত্মঘাতী এই ড্রেজার দিয়ে সমতল মাটির তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ফসলি জমি দেবে যাওয়াসহ আশপাশের পরিবেশেরও ভয়াবহ ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জমির মালিক ইব্রাহীম হাওলাদার, জলিল হাওলাদার, খলিল হাওলাদার, লুৎফর হাওলাদার ও লোকমান হাওলাদার জানান, যে জমি থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেই জমিসহ আশপাশের সমস্ত জমি তাদের। সেই জমিতে ১০-১২ দিন আগে স্থানীয় প্রভাবশালী রমজান ও সোহাগ জোরপূর্বক আত্মঘাতী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তোলা শুরু করেন। পরে শরণখোলা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এসে তা বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আইন অমান্য করে আজ (সোমবার) সকাল থেকে আবার বালু উত্তোলন শুরু করেন।

জমির মালিকেরা জানান, তাদের জমি থেকে বালু তুলে প্রায় দেড় হাজার ফুট দূরের বিশাল পুকুর ভরাট করছেন তারা। বালু তোলার কারণে জমির তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এতে যে কোনো সময় বিশাল এলাকা নিয়ে জমি দেবে যেতে পারে। বালু তোলা বন্ধ করতে বললে তারা কোনো কথাই শুনছেন না। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

জানতে চাইলে বালু উত্তোলনকারী রমজান হাওলাদার জানান, যেখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেই জমির মালিক তারা। তাদের জমি থেকেই তারা বালু তুলে পুকুর ভরাট করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন তালুকদার বলেন, বরিং ড্রেজার পরিবেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। স্যালো মেশিনের মাধ্যমে কম্পন সৃষ্টি করে বালু তোলার ফলে মাটির তলদেশে ফাঁকা হয়ে যায়। এতে বড় ধরণের ভূমি ধসের আশঙ্কা দেখা দেবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশ বিধ্বংসী এই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এসব ড্রেজার দ্রুত বন্ধ করা উচিৎ।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, এ ব্যাপারে অবৈধ ড্রেজার মালিক ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts