রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, সকাল ৭:১৭
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২,সকাল ৭:১৭

৫৭ বাতির ৩৮টি জ্বলে না

সন্ধ্যার পর সেতু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

৪ জুলাই, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

১:৪৪ pm

যশোরের অভয়নগরে ভৈরব সেতুর অধিকাংশ বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট রয়েছে। ৫৭ বাতির মধ্যে জ্বলে মাত্র ১৯টি। যে কারণে সন্ধ্যার পর সেতু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফলে সেতুতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কখনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কখনো পথচারীরা ছিনতাইকারীর শিকারে পরিণত হয়। সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভয়নগর উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া নামে একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভৈরব নদীর উপর নির্মিত সেতুর কারণে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাকে যুক্ত করেছে। এই সেতু নড়াইল জেলাসহ কালনা হয়ে পদ্মা সেতু যাতায়াতে সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করেছে। অথচ সেই সেতু আজ অবহেলিত।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ম্যাক্স মার্কেটিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর গণভবন থেকে সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মশরহাটি ও দেয়াপাড়া উভয় প্রান্তের শুরুতে প্রায় ১৮টি বাতি নষ্ট। এছাড়া মূল সেতুর ২০টি বাতি জ্বলে না। কয়েকটি ল্যাম্পপোস্ট হেলে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর থেকে অদ্যবধি সেতুটি অযন্ত-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও নষ্ট বাতি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতুর বাতি না জ্বলায় এক শ্রেণির মানকসেবীরা সেতুর অন্ধকার স্থানে বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর নষ্ট বাতি পরির্তন করে নতুন বাতি লাগানোর দাবি জানান তারা।

দেয়াপাড়া গ্রামের শিক্ষক রহিম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর স্থানীয় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আখড়ায় পরিণত হয় সেতু। এদের কবলে পড়ে অনেক পথচারী তাদের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী হারিয়েছেন। সড়ক বিভাগ চাইলে বাতি সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক জানান, জনবল সংকটের কারণে ভৈরব সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় একটি চক্র সেতুর বৈদ্যুতিক তার চুরি ও বাতি নষ্ট করছে। নওয়াপাড়া পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণের চেষ্টা করা হচ্ছে। নষ্ট বাতি পরিবর্তণের বিষয়ে ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর সব বাতি আবার জ্বলতে শুরু করবে।

Related Posts

৫৭ বাতির ৩৮টি জ্বলে না

সন্ধ্যার পর সেতু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

৪ জুলাই, ২০২২,

১:৪৪ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

যশোরের অভয়নগরে ভৈরব সেতুর অধিকাংশ বাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট রয়েছে। ৫৭ বাতির মধ্যে জ্বলে মাত্র ১৯টি। যে কারণে সন্ধ্যার পর সেতু অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। ফলে সেতুতে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। কখনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, কখনো পথচারীরা ছিনতাইকারীর শিকারে পরিণত হয়। সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভয়নগর উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও নওয়াপাড়া নামে একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভৈরব নদীর উপর নির্মিত সেতুর কারণে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভাকে যুক্ত করেছে। এই সেতু নড়াইল জেলাসহ কালনা হয়ে পদ্মা সেতু যাতায়াতে সহজ ও সময় সাশ্রয়ী করেছে। অথচ সেই সেতু আজ অবহেলিত।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৮ মিটার প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ম্যাক্স মার্কেটিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর গণভবন থেকে সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৩ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মশরহাটি ও দেয়াপাড়া উভয় প্রান্তের শুরুতে প্রায় ১৮টি বাতি নষ্ট। এছাড়া মূল সেতুর ২০টি বাতি জ্বলে না। কয়েকটি ল্যাম্পপোস্ট হেলে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের পর থেকে অদ্যবধি সেতুটি অযন্ত-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও নষ্ট বাতি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সেতুর বাতি না জ্বলায় এক শ্রেণির মানকসেবীরা সেতুর অন্ধকার স্থানে বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর নষ্ট বাতি পরির্তন করে নতুন বাতি লাগানোর দাবি জানান তারা।

দেয়াপাড়া গ্রামের শিক্ষক রহিম উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যার পর স্থানীয় মাদকসেবী ও ছিনতাইকারীদের আখড়ায় পরিণত হয় সেতু। এদের কবলে পড়ে অনেক পথচারী তাদের টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী হারিয়েছেন। সড়ক বিভাগ চাইলে বাতি সমস্যার সমাধান করতে পারেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল হক জানান, জনবল সংকটের কারণে ভৈরব সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় একটি চক্র সেতুর বৈদ্যুতিক তার চুরি ও বাতি নষ্ট করছে। নওয়াপাড়া পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব অর্পণের চেষ্টা করা হচ্ছে। নষ্ট বাতি পরিবর্তণের বিষয়ে ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর সব বাতি আবার জ্বলতে শুরু করবে।

Related Posts