মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২, সন্ধ্যা ৬:১১
মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২,সন্ধ্যা ৬:১১

ফের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা!

চারিদিক ডেস্ক

২৮ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার চড়া। প্রতিদিন বিপিসির লোকসান হচ্ছে ১০৮ কোটি টাকা। যা পুষিয়ে নিতে ফের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা চলছে সরকারের মধ্যে।

সোমবার (২৭ জুন) স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জ্বালানি বিভাগ। সেখানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তাও চাওয়া হয়। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী মাসেই তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেছে জ্বালানি বিভাগ।

প্রসঙ্গত, গতবছরের ৩ নভেম্বর ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছিল জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। প্রতি লিটারে বাড়িয়েছিল ১৫ টাকা করে।

বৈঠকে জ্বালানি তেল বিপণন-বিক্রি এবং পরিবহন মালিক ছাড়াও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র বলছে, মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো উদ্যোগ আগে নেওয়ার সুপারিশ করেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি আগে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের তরফ থেকে বৈঠকে বলা হয়, এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম না বাড়ালে সরকারের বড় ধরনের লোকসান হবে। শিগগিরই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আবারও বসবো। কার কী অভিমত জানবো। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবো।

পরিবহন মালিকরা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে আমাদের পরিবহন খরচ বাড়বে, ফলে ভাড়া বাড়ানোর বিকল্প থাকবে না। এ বিষয়টিও সরকারের ভাবা উচিত। পেট্রোল পাম্পের মালিকরা বলেন, তেলের দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অনেক বেশি। তাই এটা সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা বিবেচনা করতে পারে সরকার। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে জোড়-বেজোড় সংখ্যার নম্বর প্লেট অনুযায়ী গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা চালু করা যায় বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, বিআরটিএ-এর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি শামসুল আলম, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক, ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল করিম, বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহম্মেদ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন বলেন, বিপিসির যে লোকসান হচ্ছে তা আমাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু গত নভেম্বরেই একবার তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম বেড়েছে। এখন ঈদের পর যদি তেলের আবার একদফা বাড়ে তবে সাধারণ মানুষের অবস্থার সাপেক্ষে তা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে সেটা সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।

-বাংলাট্রিবিউন

Related Posts

ফের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা!

চারিদিক ডেস্ক

২৮ জুন, ২০২২,

২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার চড়া। প্রতিদিন বিপিসির লোকসান হচ্ছে ১০৮ কোটি টাকা। যা পুষিয়ে নিতে ফের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা চলছে সরকারের মধ্যে।

সোমবার (২৭ জুন) স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে জ্বালানি বিভাগ। সেখানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহায়তাও চাওয়া হয়। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আগামী মাসেই তেলের দাম বাড়ানো হতে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেছে জ্বালানি বিভাগ।

প্রসঙ্গত, গতবছরের ৩ নভেম্বর ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটার ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করেছিল জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। প্রতি লিটারে বাড়িয়েছিল ১৫ টাকা করে।

বৈঠকে জ্বালানি তেল বিপণন-বিক্রি এবং পরিবহন মালিক ছাড়াও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র বলছে, মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো উদ্যোগ আগে নেওয়ার সুপারিশ করেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি আগে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের তরফ থেকে বৈঠকে বলা হয়, এই মুহূর্তে জ্বালানির দাম না বাড়ালে সরকারের বড় ধরনের লোকসান হবে। শিগগিরই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আবারও বসবো। কার কী অভিমত জানবো। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবো।

পরিবহন মালিকরা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালে আমাদের পরিবহন খরচ বাড়বে, ফলে ভাড়া বাড়ানোর বিকল্প থাকবে না। এ বিষয়টিও সরকারের ভাবা উচিত। পেট্রোল পাম্পের মালিকরা বলেন, তেলের দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব সরাসরি পড়ে অনেক বেশি। তাই এটা সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা বিবেচনা করতে পারে সরকার। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ে জোড়-বেজোড় সংখ্যার নম্বর প্লেট অনুযায়ী গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা চালু করা যায় বলেও প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, বিআরটিএ-এর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখর বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ট্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি শামসুল আলম, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক, ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুল করিম, বাংলাদেশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহম্মেদ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট আরও অনেকে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন বলেন, বিপিসির যে লোকসান হচ্ছে তা আমাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু গত নভেম্বরেই একবার তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম বেড়েছে। এখন ঈদের পর যদি তেলের আবার একদফা বাড়ে তবে সাধারণ মানুষের অবস্থার সাপেক্ষে তা কতটা যুক্তিযুক্ত হবে সেটা সরকারকে বিবেচনা করতে হবে।

-বাংলাট্রিবিউন

Related Posts