শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, সন্ধ্যা ৭:৩০
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,সন্ধ্যা ৭:৩০

‘সিকিউরিটির টাকা দিবি নাকি জীবন দিবি’

২৬ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

১:১২ পূর্বাহ্ণ

প্রতিনিধি, যবিপ্রবি : টেন্ডার সিকিউরিটির টাকা ফেরত না দেওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ ও আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্র শারিরীক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বর্তমানে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৫ জুন) দুপুর আড়াইটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিচার দাবি করে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দিয়েছেনন।
চিঠিকে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জানান,  শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি’র প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম প্রশিক্ষণস্থলে এসে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ ডাকছেন বলে জানান। শিক্ষক ড. জাহিদের ডাকার পর বের হয়ে দরজায় আসলে তিনি আমাকে একাডেমিক ভবনের সিড়ির নিচে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেন এবং বলেন, ‘সিকিউরিটির টাকা দিবি নাকি জীবন দিবি, সিদ্ধান্ত তোর’।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহীর একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে ৬০ কেভি ডিজেলচালিত জেনারেটর সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ টাকার (বিল) প্রকল্পের বিপরীতে সিকিউরিট বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জামানত রাখা হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ওই সিকিউরিটির টাকা বহিস্কৃত ছাত্র আজিজকে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন ড. ইকবাল কবীর জাহিদ। এ নিয়ে ড. জাহিদ একাধিকবার তাকে সুপারিশ করেন। উপাচার্যের দপ্তরে ডেকে নিয়ে হুমকি ধামকিও দিয়েছেন। কিন্তু বিলের কাগজপত্র ঠিকমত না থাকায় তিনি টাকা দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ জানান, আমার নামে কেনো এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা জানিনা। হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার যে সুনাম রয়েছে তা নষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ এমন অভিযোগ তুলছে।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত বহিষ্কৃত ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলামকে নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর।
রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজিজুল ইসলাম (সেশন ২০১১-১২) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ক্যাম্পাসে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে ৬০ কেভি ডিজেলচালিত জেনারেটর সরবরাহ করি। জেনারেটরের মেয়াদকাল ও সার্ভিস সময় সবকিছুই ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আমি জামানতের টাকার জন্য আবেদন করলে প্রকৌশলী মিজান টাকা দিতে নানা প্রকার তালবাহানা করে। এ বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বলতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

Related Posts

‘সিকিউরিটির টাকা দিবি নাকি জীবন দিবি’

২৬ জুন, ২০২২,

১:১২ পূর্বাহ্ণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
প্রতিনিধি, যবিপ্রবি : টেন্ডার সিকিউরিটির টাকা ফেরত না দেওয়ায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ ও আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্র শারিরীক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বর্তমানে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৫ জুন) দুপুর আড়াইটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাডেমিক ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিচার দাবি করে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দিয়েছেনন।
চিঠিকে ভুক্তভোগী কর্মকর্তা জানান,  শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি’র প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম প্রশিক্ষণস্থলে এসে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ ডাকছেন বলে জানান। শিক্ষক ড. জাহিদের ডাকার পর বের হয়ে দরজায় আসলে তিনি আমাকে একাডেমিক ভবনের সিড়ির নিচে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেন এবং বলেন, ‘সিকিউরিটির টাকা দিবি নাকি জীবন দিবি, সিদ্ধান্ত তোর’।
এ বিষয়ে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহীর একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে ৬০ কেভি ডিজেলচালিত জেনারেটর সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ টাকার (বিল) প্রকল্পের বিপরীতে সিকিউরিট বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জামানত রাখা হয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ওই সিকিউরিটির টাকা বহিস্কৃত ছাত্র আজিজকে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন ড. ইকবাল কবীর জাহিদ। এ নিয়ে ড. জাহিদ একাধিকবার তাকে সুপারিশ করেন। উপাচার্যের দপ্তরে ডেকে নিয়ে হুমকি ধামকিও দিয়েছেন। কিন্তু বিলের কাগজপত্র ঠিকমত না থাকায় তিনি টাকা দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ জানান, আমার নামে কেনো এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা জানিনা। হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার যে সুনাম রয়েছে তা নষ্ট করার জন্য একটি পক্ষ এমন অভিযোগ তুলছে।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত বহিষ্কৃত ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলামকে নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর।
রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজিজুল ইসলাম (সেশন ২০১১-১২) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ক্যাম্পাসে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে ৬০ কেভি ডিজেলচালিত জেনারেটর সরবরাহ করি। জেনারেটরের মেয়াদকাল ও সার্ভিস সময় সবকিছুই ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আমি জামানতের টাকার জন্য আবেদন করলে প্রকৌশলী মিজান টাকা দিতে নানা প্রকার তালবাহানা করে। এ বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বলতে গেলে কথা কাটাকাটি হয়, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

Related Posts