শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, রাত ১০:১২
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,রাত ১০:১২

মরিয়মের ভালো পায়েই প্লাস্টার করলেন ‘ডাক্তার’

২৩ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৯:৩৮ pm

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলীতে মরিয়ম বেগম নামে এক রোগীর ভালো পায়ে প্লাস্টার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুয়া চিকিৎসক সেজে মো. জহিরুল ইসলাম লিটন নামে আমতলী ডিজিটাল ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের পরিচালক এ প্লাস্টার করেছেন। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুয়া চিকিৎসক লিটনের বিচার চেয়ে রোগীর স্বজন মো. আক্কাস প্যাদা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন আমতলী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জহিরুল ইসলাম লিটন দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসক সেজে ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে।

গত ১৬ জুন উপজেলার দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের মরিয়ম বেগম পায়ে ব্যথা নিয়ে আমতলী ডিজিটাল ডায়গনিস্টিক সেন্টারে আসেন। এ সময় জহিরুল নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীর বাম পা ভেঙেছে বলে ভালো পায়ে প্লাস্টার করে এক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ভালো পায়ে প্লাস্টার করার পরপরই রোগী পায়ে ব্যথা অনুভব করেন। চারদিন পর গত সোমবার তিনি আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদের কাছে যান। তিনি ভুক্তভোগী মরিয়মের পা ভাঙেনি বলে প্লাস্টার খুলে ফেলেন।

এ ঘটনায় রোগী মরিয়মের স্বজন আব্বাস প্যাদা মঙ্গলবার ভুয়া চিকিৎসক জহিরুলের শাস্তি দাবি করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার্র কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. মুনয়েম সাদ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন খন্দকারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

কথিত চিকিৎসক জহিরুল রোগীর পায়ে প্লাস্টার করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না। গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে পায়ে প্লাস্টার করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সুমন খন্দকার বলেন, বুধবার বিকেলে তদন্ত শুরু করেছি। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদন পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts

মরিয়মের ভালো পায়েই প্লাস্টার করলেন ‘ডাক্তার’

২৩ জুন, ২০২২,

৯:৩৮ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলীতে মরিয়ম বেগম নামে এক রোগীর ভালো পায়ে প্লাস্টার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুয়া চিকিৎসক সেজে মো. জহিরুল ইসলাম লিটন নামে আমতলী ডিজিটাল ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের পরিচালক এ প্লাস্টার করেছেন। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুয়া চিকিৎসক লিটনের বিচার চেয়ে রোগীর স্বজন মো. আক্কাস প্যাদা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিবল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন আমতলী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জহিরুল ইসলাম লিটন দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া চিকিৎসক সেজে ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অপচিকিৎসা দিয়ে আসছে।

গত ১৬ জুন উপজেলার দক্ষিণ রাওঘা গ্রামের মরিয়ম বেগম পায়ে ব্যথা নিয়ে আমতলী ডিজিটাল ডায়গনিস্টিক সেন্টারে আসেন। এ সময় জহিরুল নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীর বাম পা ভেঙেছে বলে ভালো পায়ে প্লাস্টার করে এক হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। ভালো পায়ে প্লাস্টার করার পরপরই রোগী পায়ে ব্যথা অনুভব করেন। চারদিন পর গত সোমবার তিনি আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদের কাছে যান। তিনি ভুক্তভোগী মরিয়মের পা ভাঙেনি বলে প্লাস্টার খুলে ফেলেন।

এ ঘটনায় রোগী মরিয়মের স্বজন আব্বাস প্যাদা মঙ্গলবার ভুয়া চিকিৎসক জহিরুলের শাস্তি দাবি করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার্র কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডা. মুনয়েম সাদ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সুমন খন্দকারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

কথিত চিকিৎসক জহিরুল রোগীর পায়ে প্লাস্টার করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না। গ্রাম্য চিকিৎসক হিসেবে পায়ে প্লাস্টার করেছি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. সুমন খন্দকার বলেন, বুধবার বিকেলে তদন্ত শুরু করেছি। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আব্দুল মুনয়েম সাদ বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদন পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts