রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, সকাল ৭:৩৪
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২,সকাল ৭:৩৪

পরিমিত সার ব্যবহারে কম খরচে ভালো ফলন

২২ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৭:১৫ pm

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা: জেলার আমতলীর সদর ইউনিয়নের চারঘাট গ্রামে বুধবার সকাল ১০টায় সার ব্যবহার এবং এর উপকারিতা বিষয়ক এক কৃষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অস্ট্রেলিয়ার দাতা সংস্থা এসিআইআর (অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিচার্স) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ফাউন্ডেশন-এর যৌথ আর্থিক সহযোগিতায় নিউম্যান (নিউট্রেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফর ডাইভারসিফাইড ক্রোপিং ইন বাংলাদেশ)  প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা, ধান গবেষণা, মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট ও অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি সুরক্ষা সংগঠন, বাংলাদেশ সার সমিতি যৌথভাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

নিউম্যান প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে এই অঞ্চলে সারের প্রয়োগ নিয়ে একটি গবেষনা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসিআইআর।

পটুয়াখালী বিঞ্জান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোষ্টগ্রাজুয়েট স্টাডিজ বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনমিয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রিচার্ড ডাব্রিল বেল। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞানের প্রফেসর মো. আসাদুল হক, নিউম্যান (নিউট্রেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফর ডাইভারসিফাইড ক্রোপিং ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পের সমন্বয়কারী  ড. এনামুল হক ও আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ডাব্রিল বেল তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের মাটি বিভিন্ন ভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় মাটির ভৌত গঠনে অবনতি, মাটির জৈব উপাদান হ্রাস পাচ্ছে এবং জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগের পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে কিন্তু জমির স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। মাটি পরীক্ষা করে ফসলের চাহিদা অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগ করা হলে একদিকে যেমন জমির মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে অন্যদিকে ফসলের ফলন বেশি হয়। জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে ফসলের আবাদে খরচ বেড়ে যায় এবং অব্যবহৃত সার বৃষ্টি অথবা সেচের পানির সাথে মিশে পানি মাটি ও পরিবেশ দূষিত করে।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, নিউম্যান প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে আমতলী সদর ইউনিয়নের সেকান্দারখালী, কড়ইবুনিয়া, কুকুয়ার কৃষ্ণনগর গ্রামে সারের প্রয়োগ নিয়ে গবেষণামূলক একটি প্রকল্প পরিচালনা করে আসছি। গবেষণায় দেখা যায় অত্র গ্রামের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় অধিক মাত্রায়  ইউরিয়া, টিএসপি বা ডিএপি সার ব্যবহার করছে। অন্যদিকে পটাশ, জিপসাম মাত্রায় অনেক কম ব্যবহার করছে। ফলে ফসলের পরিমাণ কমে আসছে।

তিনি আরো বলেন, নিউম্যান প্রকল্পের আওতায় ৫০০০ হাজার সার সুপারিশ মালা কার্ড তৈরি করে করে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই কার্ডে উল্লেখিত নির্ধারিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করে উল্লেখিত গ্রামের কৃষকরা বিগত আমন, রবি ও বোরো মৌসুমে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে তুলনামূলক কম খরচে বেশী ফসল ঘরে তুলেছে।

Related Posts

পরিমিত সার ব্যবহারে কম খরচে ভালো ফলন

২২ জুন, ২০২২,

৭:১৫ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা: জেলার আমতলীর সদর ইউনিয়নের চারঘাট গ্রামে বুধবার সকাল ১০টায় সার ব্যবহার এবং এর উপকারিতা বিষয়ক এক কৃষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অস্ট্রেলিয়ার দাতা সংস্থা এসিআইআর (অস্ট্রেলিয়ান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিচার্স) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ফাউন্ডেশন-এর যৌথ আর্থিক সহযোগিতায় নিউম্যান (নিউট্রেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফর ডাইভারসিফাইড ক্রোপিং ইন বাংলাদেশ)  প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা, ধান গবেষণা, মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউট ও অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি সুরক্ষা সংগঠন, বাংলাদেশ সার সমিতি যৌথভাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

নিউম্যান প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে এই অঞ্চলে সারের প্রয়োগ নিয়ে একটি গবেষনা মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এসিআইআর।

পটুয়াখালী বিঞ্জান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোষ্টগ্রাজুয়েট স্টাডিজ বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মো. ফজলুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনমিয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, অস্ট্রেলিয়ার মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রিচার্ড ডাব্রিল বেল। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞানের প্রফেসর মো. আসাদুল হক, নিউম্যান (নিউট্রেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফর ডাইভারসিফাইড ক্রোপিং ইন বাংলাদেশ) প্রকল্পের সমন্বয়কারী  ড. এনামুল হক ও আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিএম রেজাউল করিম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি ডাব্রিল বেল তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের মাটি বিভিন্ন ভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় মাটির ভৌত গঠনে অবনতি, মাটির জৈব উপাদান হ্রাস পাচ্ছে এবং জমিতে রাসায়নিক সার প্রয়োগের পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে কিন্তু জমির স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নয়। মাটি পরীক্ষা করে ফসলের চাহিদা অনুযায়ী জমিতে সার প্রয়োগ করা হলে একদিকে যেমন জমির মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে অন্যদিকে ফসলের ফলন বেশি হয়। জমিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে ফসলের আবাদে খরচ বেড়ে যায় এবং অব্যবহৃত সার বৃষ্টি অথবা সেচের পানির সাথে মিশে পানি মাটি ও পরিবেশ দূষিত করে।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, নিউম্যান প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সাল থেকে আমতলী সদর ইউনিয়নের সেকান্দারখালী, কড়ইবুনিয়া, কুকুয়ার কৃষ্ণনগর গ্রামে সারের প্রয়োগ নিয়ে গবেষণামূলক একটি প্রকল্প পরিচালনা করে আসছি। গবেষণায় দেখা যায় অত্র গ্রামের মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় অধিক মাত্রায়  ইউরিয়া, টিএসপি বা ডিএপি সার ব্যবহার করছে। অন্যদিকে পটাশ, জিপসাম মাত্রায় অনেক কম ব্যবহার করছে। ফলে ফসলের পরিমাণ কমে আসছে।

তিনি আরো বলেন, নিউম্যান প্রকল্পের আওতায় ৫০০০ হাজার সার সুপারিশ মালা কার্ড তৈরি করে করে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এই কার্ডে উল্লেখিত নির্ধারিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করে উল্লেখিত গ্রামের কৃষকরা বিগত আমন, রবি ও বোরো মৌসুমে বিভিন্ন ফসল আবাদ করে তুলনামূলক কম খরচে বেশী ফসল ঘরে তুলেছে।

Related Posts