রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, সকাল ৮:২৫
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২,সকাল ৮:২৫

বন্যা মোকাবেলায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার

২২ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

২:০২ pm

চারিদিক ডেস্ক : দেশে বন্যা পরিস্থিতি মোকবিলায় সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ও বন্যা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বুধবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলনটি শুরু হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটে যে বন্যা হয়েছে তা অকল্পনীয়, স্মরণকালের মধ্যে ভয়াবহ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানোর ক্ষমতা মানুষ বা সরকারের কারোই নেই। তবে ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। আর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্গত মানুষদের সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন বাহিনীর শতাধিক বোট, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য যান উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বাসভাসীদের সহায়তায় সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে পর্যাপ্ত খাবারের। সিলেট অঞ্চলে কাজ করছে ৩০০ মেডিকেল টিম। সিলেটে ১২৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত বন্যাকবলিত ১১ জেলায় ৯০০ মেট্রিক টন চাল, ৩ কোটি ৩৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৫৫ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দরকার শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির। আমরা সে ব্যবস্থাই করেছি। আমাদের দলের নেতাকর্মীরাও সাধ্যমত দুর্গত মানুষের ঘরে শুকনো এবং রান্না করার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে দু-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।

বন্যার পানি নামতে সড়ক কাটার নির্দেশ

বন্যার পানি যেন দ্রুত নেমে যায় সেজন্য প্রয়োজনে সড়ক কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা। বলেন, পানি যাতে দ্রুত নামতে পারে, প্রয়োজনে রাস্তা কেটে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নয়ন হলে সেগুলো সংস্কার করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যেসব জায়গা দিয়ে বন্যার পানি দ্রুত নামে সেগুলোতে সেতু বা কালভার্ট এমনভাবে করা হবে যাতে কোথাও কোনো ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, কোথায় কোথায় পানি দ্রুত নামে সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে ব্রিজ, কালভার্ট এমনভাবে করা হবে, যাতে আগামীতে কোথাও পানি জমে না থাকে।’

বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকার তৎপর 

শেখ হাসিনা বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে বাড়িঘর মেরামত এবং কৃষি পুনর্বাসনের কর্মসূচি হাতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের আশ্বাস দিতে চাই, সরকার আপনাদের পাশে আছে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্যার্তদের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়েও কথা বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার ও গর্বের। আগামী ২৫ জুনই স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে।

Related Posts

বন্যা মোকাবেলায় আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার

২২ জুন, ২০২২,

২:০২ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

চারিদিক ডেস্ক : দেশে বন্যা পরিস্থিতি মোকবিলায় সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ও বন্যা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বুধবার বেলা ১১টায় সংবাদ সম্মেলনটি শুরু হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সিলেটে যে বন্যা হয়েছে তা অকল্পনীয়, স্মরণকালের মধ্যে ভয়াবহ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানোর ক্ষমতা মানুষ বা সরকারের কারোই নেই। তবে ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। আর বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্গত মানুষদের সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন বাহিনীর শতাধিক বোট, হেলিকপ্টার ও অন্যান্য যান উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বাসভাসীদের সহায়তায় সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে পর্যাপ্ত খাবারের। সিলেট অঞ্চলে কাজ করছে ৩০০ মেডিকেল টিম। সিলেটে ১২৮৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত বন্যাকবলিত ১১ জেলায় ৯০০ মেট্রিক টন চাল, ৩ কোটি ৩৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৫৫ হাজার শুকনো ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দরকার শুকনো খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির। আমরা সে ব্যবস্থাই করেছি। আমাদের দলের নেতাকর্মীরাও সাধ্যমত দুর্গত মানুষের ঘরে শুকনো এবং রান্না করার খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পানি কমতে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে দু-একদিনের মধ্যে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।

বন্যার পানি নামতে সড়ক কাটার নির্দেশ

বন্যার পানি যেন দ্রুত নেমে যায় সেজন্য প্রয়োজনে সড়ক কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা। বলেন, পানি যাতে দ্রুত নামতে পারে, প্রয়োজনে রাস্তা কেটে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নয়ন হলে সেগুলো সংস্কার করা হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যেসব জায়গা দিয়ে বন্যার পানি দ্রুত নামে সেগুলোতে সেতু বা কালভার্ট এমনভাবে করা হবে যাতে কোথাও কোনো ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়।

সরকারপ্রধান বলেন, কোথায় কোথায় পানি দ্রুত নামে সেই জায়গাগুলো চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে ব্রিজ, কালভার্ট এমনভাবে করা হবে, যাতে আগামীতে কোথাও পানি জমে না থাকে।’

বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে সরকার তৎপর 

শেখ হাসিনা বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলে বাড়িঘর মেরামত এবং কৃষি পুনর্বাসনের কর্মসূচি হাতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমরা বন্যাকবলিত মানুষদের আশ্বাস দিতে চাই, সরকার আপনাদের পাশে আছে। মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বন্যার্তদের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নিয়েও কথা বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের অহংকার ও গর্বের। আগামী ২৫ জুনই স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হবে।

Related Posts