রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, সকাল ৯:১৪
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২,সকাল ৯:১৪

৩ বছর মেয়াদের কমিটি অনুমোদন পেল আড়াই বছর পর!

২০ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৯:০৫ pm

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা : মেয়াদ শেষের মাত্র ছয়মাস আগে পুর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পেয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগ।
১৮ জুন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভূঁইয়া হেমায়েত উদ্দিন স্বাক্ষর করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিকে অনমোদন দেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কামাল উদ্দিন আকন সভাপতি ও আজমল হোসেন মুক্তা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।কিন্তু সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর সভাপতি কামাল উদ্দিন আকন মৃত্যুবরণ করেন। এর পর নতুন সভাপতি নির্ধারণ, করোনা মহামারিতে সবকিছু স্থবির হওয়া এবং কমিটিতে কাকে কোথায় রাখা হবে এনিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে বছরখানে আগে কেন্দ্র থেকে প্রয়াত সভাপতি কামাল উদ্দিন আকনের স্থলে সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তাকে সভাপতি এবং উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আসাদুজ্জামান মিলনকে নতুন সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করা হয়। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজাতে সময় ক্ষেপন হয়। এর ফলে জেলা থেকে কমিটি অনুমোদনে বিলম্ব হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়।
এদিকে, মেয়াদ শেষের আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া সদস্যদের মাঝে অনেকটা হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সদস্য বলেন, ‘মেয়াদতো শেষই হয়ে গেছে। এই কমিটিতে থাকা আর না থাকা সমান কথা। তার চেয়ে ছয়মাস পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে কমিটি ঘোষণা দিলেই ভালো হতো।

অপরদিকে, দলের অনেকে ত্যাগী নেতা বাদ পড়েছেন এই কমিটি থেকে। দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে দলকে সংগঠিত করেও স্থান না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই কমিটি পক্ষপাতমূলক উল্লেখ করে বাদ পড়া একাধিক ব্যক্তি জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়া পূর্বের কমিটির সদস্য মো. শাহজাহান মাতুব্বর ও আতিয়ার রহমান নিরব বলেন, ‘এই কমিটি পক্ষপাতমূলক। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ করার মতো কম বয়সি অনেকেই আওয়ামীলীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছে। এখানে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। অথচ আমাদের মতো প্রবীণ এবং দলের জন্য যাদের ত্যাগ-শ্রম রয়েছে তারা বাদ পড়েছেন। ত্যাগীদের সংযুক্ত করে পুনরায় কমিটি সাজানোর জন্য আমরা জেলা কমিটির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।

বর্মমান কমিটির সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, সম্মেলনের কিছুদিন পরই সভাপতির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে শূণ্যপদ পূরণসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। যার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজাতে সময় চলে যায়।’

এব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভূঁইয়া হেমায়েত উদ্দিন বলেন, উপজেলা থেকে যখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে আমরা তখনই অনুমোদন দিয়েছি। তারা দিতে দেরি করেছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া কমিটি অনুমোদন হয়ে গেছে, এখন অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না।

 

Related Posts

৩ বছর মেয়াদের কমিটি অনুমোদন পেল আড়াই বছর পর!

২০ জুন, ২০২২,

৯:০৫ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা : মেয়াদ শেষের মাত্র ছয়মাস আগে পুর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন পেয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা আওয়ামীলীগ।
১৮ জুন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভূঁইয়া হেমায়েত উদ্দিন স্বাক্ষর করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটিকে অনমোদন দেন। এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে কামাল উদ্দিন আকন সভাপতি ও আজমল হোসেন মুক্তা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।কিন্তু সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাত্র ১০ দিনের মাথায় ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর সভাপতি কামাল উদ্দিন আকন মৃত্যুবরণ করেন। এর পর নতুন সভাপতি নির্ধারণ, করোনা মহামারিতে সবকিছু স্থবির হওয়া এবং কমিটিতে কাকে কোথায় রাখা হবে এনিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে বছরখানে আগে কেন্দ্র থেকে প্রয়াত সভাপতি কামাল উদ্দিন আকনের স্থলে সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন মুক্তাকে সভাপতি এবং উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আসাদুজ্জামান মিলনকে নতুন সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করা হয়। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজাতে সময় ক্ষেপন হয়। এর ফলে জেলা থেকে কমিটি অনুমোদনে বিলম্ব হয় বলে দলীয় সূত্র জানায়।
এদিকে, মেয়াদ শেষের আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া সদস্যদের মাঝে অনেকটা হতাশা দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সদস্য বলেন, ‘মেয়াদতো শেষই হয়ে গেছে। এই কমিটিতে থাকা আর না থাকা সমান কথা। তার চেয়ে ছয়মাস পর সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন করে কমিটি ঘোষণা দিলেই ভালো হতো।

অপরদিকে, দলের অনেকে ত্যাগী নেতা বাদ পড়েছেন এই কমিটি থেকে। দীর্ঘদিন শ্রম দিয়ে দলকে সংগঠিত করেও স্থান না পাওয়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই কমিটি পক্ষপাতমূলক উল্লেখ করে বাদ পড়া একাধিক ব্যক্তি জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বর্তমান কমিটি থেকে বাদ পড়া পূর্বের কমিটির সদস্য মো. শাহজাহান মাতুব্বর ও আতিয়ার রহমান নিরব বলেন, ‘এই কমিটি পক্ষপাতমূলক। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগ করার মতো কম বয়সি অনেকেই আওয়ামীলীগের কমিটিতে স্থান পেয়েছে। এখানে স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। অথচ আমাদের মতো প্রবীণ এবং দলের জন্য যাদের ত্যাগ-শ্রম রয়েছে তারা বাদ পড়েছেন। ত্যাগীদের সংযুক্ত করে পুনরায় কমিটি সাজানোর জন্য আমরা জেলা কমিটির কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছি।

বর্মমান কমিটির সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, সম্মেলনের কিছুদিন পরই সভাপতির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে শূণ্যপদ পূরণসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। যার কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি সাজাতে সময় চলে যায়।’

এব্যাপারে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভূঁইয়া হেমায়েত উদ্দিন বলেন, উপজেলা থেকে যখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে আমরা তখনই অনুমোদন দিয়েছি। তারা দিতে দেরি করেছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তাছাড়া কমিটি অনুমোদন হয়ে গেছে, এখন অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না।

 

Related Posts