রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, সকাল ৭:৪৪
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২,সকাল ৭:৪৪

মধুর চাহিদা বাড়লেও বাড়ছে না উৎপাদন

১৯ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৬:৪৫ pm

মহিদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, শরণখোলা : সুন্দরবনের মধু! নাম শোনামাত্রই একবার হলেও এর স্বাদ গ্রহণের আকাঙ্খা সবারই জাগে। দিন দিন বাড়ছে এই মধুর চাহিদা। তবে সেতুলনায় উৎপাদন বাড়ছেনা। কয়েকবছর ধরে মধু উৎপাদনে স্থিতাবস্থা চলছে।

বর্তমান সুন্দরবন থেকে যে পরিমাণ মধু আহরিত হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। মধুর অনলাইন বাজার প্রসারিত হওয়ায় এর কদর এবং দাম দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন কম ও চাহিদা বাড়ায় মধুর প্রকার ভেদে গতবারের চেয়ে এ বছর কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০টাকা। ফলে সুন্দরবনের মধু সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক এই মধু অন্যান্য চাষের মধুর তুলনায় স্বাদে ও মানে অনন্য। যথেষ্ট পরিমাণে ঔষধি গুণ রয়েছে এই মধুতে। সেকারনেই বাড়ছে এর কদর।

এক সময় বন থেকে আহরিত এই মধু স্থানীয়ভাবে খুব কম দামে বিক্রি হতো। চার-পাঁচ বছর আগেও এক কেজি মধু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এমনকি গত বছরও খুচরা বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে হাজার টাকা কেজি দরে। কিন্তু বর্তমানে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকার খুচরা বাজারে এক কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। মধুর এমন চড়া বাজারে নেহাত প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয়দের মধু কিনতে দেখা যায় না।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পূর্ব সুন্দরবন থেকে ১হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু আহরণ হয়েছিল। কিন্তু এবছর আহরণ হয়েছে মাত্র ৬৫৪ কুইন্টাল। এ বছর মধু কম হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মৌসুমের মাঝামাঝি ১ জুন থেকে সুন্দরবনের মৎস্য প্রজাতির প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। একারণে ১৪ মে থেকে মধুসহ সুন্দরবনের সব ধরণের পাসপারমিট বন্ধ করা হয়। একারণে আশানুরুপ মধু আহরণ করতে পারেনি মৌয়ালরা।

সুন্দরবনের মধুর নানা দিক নিয়ে কথা হয় শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৌয়ালদের সঙ্গে। এদের মধ্যে খুড়িয়ালী গ্রামের মৌয়াল আল-আমিন ফরাজী, ইসমাইল জমাদ্দার, জলেরঘাট গ্রামের মৌয়াল নূর ইসলাম ফরাজী, ইব্রাহীম বেপারী ও চালিতাবুনিয়া গ্রামের মন্টু পেয়াদা বলেন, আমরা একেকজন ১৫-২০ বছর ধরে সুন্দরবনে মধু ভাঙছি (আহরণ)। আগে বনের এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা খুঁজলেই ৫-৬টি মৌচাক পাওয়া যেতো। একেকটি মৌচাক থেকে চার থেকে পাঁচ কেজি আবার কোনো কোনো চাক থেকে ১০-১২ কেজিও মধু পেয়েছি। কিন্তু এবার মাইলে পর পর মাইল হেটেও মৌমাছি ও মৌচাক কোনোটিই চোখে পড়ে না। বনে ফুলের সংখ্যাও কম দেখা গেছে। যা দু-একটি চাক পাওয়া গেছে তা আকারে খুবই ছোট। এসব চাক ভেঙে কোনোটিতে ২০০গ্রাম, আবার কোনোটিতে ৫০০ গ্রাম মধু পেয়েছি। এতে আমাদের চালান ওঠেনি।

ধীরে ধীরে মধু ও মৌমাছি কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিজ্ঞ এই মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে অহরহ মাছ ধরা হচ্ছে। বিষক্রিয়ায় বনের মাটি-পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। আর মৌমাছিরা নদীর চরের কাদা মাটি দিয়ে প্রথমে তাদের বাসা (চাক) তৈরির সূচনা করে। মাটি সংগ্রহ করার সময় বিষে মৌমাছি মরছে। তাছাড়া দিন দিন বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় গাছে ফুল ধরছে না। যা হচ্ছে তাও শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে। এসব কারণে মধুর এমন বিপর্যয় বলে তারা মনে করছেন।

শরণখোলার মধু ব্যবসায়ী মো. রাসেল আহমেদ, রিপন বয়াতী, ইমাম হোসেন, ইউনুচ হাওলাদার জানান, স্থানীয়ভাবে বড় পাইকার হিসেবে তারা সরাসরি মৌয়ালদের কাছ থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহ করেন। এছাড়া বন এলাকায় ছোটবড় ১২ থেকে ১৫ জন পাইকার রয়েছেন।

তাদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনের মধুর উৎপাদন একটা স্থিতাবস্থায় রয়েছে। বাড়ছেনা বরং কমছে। কিন্তু চাহিদা বাড়ছে অস্বাভাবিক।

মধু ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে মধু বিক্রি হচ্ছে। এখন অনলাইনে ঘরে বসেই মধুর অর্ডার নিচ্ছেন তারা। তাছাড়া, দারাজ এবং সুন্দরবন পিওর হানিসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমেও দেশ-বিদেশে সুন্দরবেনর খাঁটি মধু পৌছে যাচ্ছে। এছাড়া, শান্তিনগরে খুলনা মধু ঘর, খীলক্ষেতে আজওয়া, মহম্মাদপুরে লালশালুসহ ঢাকার বিভিন্ন সুপার শপে সুন্দরবনের এই খাঁটি মধু সরবরাহ করছেন তারা।

তারা আরো জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধুর বাজার প্রসারিত হওয়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। মৌয়ালদের কাছ থেকে অপরিশোধিত এক মণ মধু ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। এই মধুর পোলেম (গাদ) মোম ও ছাই অপসারণ করে বাজাজাত করেত গিয়ে কেজিতে ১৫০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম ঘাটতি হয়। ঘাটতি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এখন এক কেজি মধু খুচরা বাজারে ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) শহিদুল ইসলাম চারিদিককে বলেন, এ বছর ১ জুন থেকে সুন্দরবনের মাছের প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় ১৪ মে থেকে সব ধরণের পাসপারমিট বন্ধ করা হয়েছে। এ কারণে তিন মাসের মধুর মৌসুমের দেড় মাসই আহরণ সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ফুল কম হওয়ায় মধু ও মৌমাছি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষক্রিয়া বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকলে সেটা বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ছাড়া বলা মুশকিল।

এসিএফ জানান, এ বছর ১ হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৩৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নিয়ে শরণখোলা, চাঁদপাই, ঢাংমারী, জিউধরাসহ চারটি স্টেশন থেকে মধু আহরণের পাস দেওয়া হয়েছিল। ১৫ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ করার কথা। কিন্তু মাছের প্রজননের কারণে মাঝপথে পাস বন্ধ হওয়ায় ৬৫৪ কুইন্টার মধু ও ১৯৬ কুইন্টাল মোম আহরণ হয়েছে। পুরো মৌসুম পেলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতো।

Related Posts

মধুর চাহিদা বাড়লেও বাড়ছে না উৎপাদন

১৯ জুন, ২০২২,

৬:৪৫ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

মহিদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, শরণখোলা : সুন্দরবনের মধু! নাম শোনামাত্রই একবার হলেও এর স্বাদ গ্রহণের আকাঙ্খা সবারই জাগে। দিন দিন বাড়ছে এই মধুর চাহিদা। তবে সেতুলনায় উৎপাদন বাড়ছেনা। কয়েকবছর ধরে মধু উৎপাদনে স্থিতাবস্থা চলছে।

বর্তমান সুন্দরবন থেকে যে পরিমাণ মধু আহরিত হচ্ছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। মধুর অনলাইন বাজার প্রসারিত হওয়ায় এর কদর এবং দাম দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদন কম ও চাহিদা বাড়ায় মধুর প্রকার ভেদে গতবারের চেয়ে এ বছর কেজিতে দাম বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০টাকা। ফলে সুন্দরবনের মধু সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক এই মধু অন্যান্য চাষের মধুর তুলনায় স্বাদে ও মানে অনন্য। যথেষ্ট পরিমাণে ঔষধি গুণ রয়েছে এই মধুতে। সেকারনেই বাড়ছে এর কদর।

এক সময় বন থেকে আহরিত এই মধু স্থানীয়ভাবে খুব কম দামে বিক্রি হতো। চার-পাঁচ বছর আগেও এক কেজি মধু ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এমনকি গত বছরও খুচরা বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে হাজার টাকা কেজি দরে। কিন্তু বর্তমানে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকার খুচরা বাজারে এক কেজি মধু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়। মধুর এমন চড়া বাজারে নেহাত প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয়দের মধু কিনতে দেখা যায় না।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পূর্ব সুন্দরবন থেকে ১হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু আহরণ হয়েছিল। কিন্তু এবছর আহরণ হয়েছে মাত্র ৬৫৪ কুইন্টাল। এ বছর মধু কম হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মৌসুমের মাঝামাঝি ১ জুন থেকে সুন্দরবনের মৎস্য প্রজাতির প্রজনন মৌসুম শুরু হয়। একারণে ১৪ মে থেকে মধুসহ সুন্দরবনের সব ধরণের পাসপারমিট বন্ধ করা হয়। একারণে আশানুরুপ মধু আহরণ করতে পারেনি মৌয়ালরা।

সুন্দরবনের মধুর নানা দিক নিয়ে কথা হয় শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৌয়ালদের সঙ্গে। এদের মধ্যে খুড়িয়ালী গ্রামের মৌয়াল আল-আমিন ফরাজী, ইসমাইল জমাদ্দার, জলেরঘাট গ্রামের মৌয়াল নূর ইসলাম ফরাজী, ইব্রাহীম বেপারী ও চালিতাবুনিয়া গ্রামের মন্টু পেয়াদা বলেন, আমরা একেকজন ১৫-২০ বছর ধরে সুন্দরবনে মধু ভাঙছি (আহরণ)। আগে বনের এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা খুঁজলেই ৫-৬টি মৌচাক পাওয়া যেতো। একেকটি মৌচাক থেকে চার থেকে পাঁচ কেজি আবার কোনো কোনো চাক থেকে ১০-১২ কেজিও মধু পেয়েছি। কিন্তু এবার মাইলে পর পর মাইল হেটেও মৌমাছি ও মৌচাক কোনোটিই চোখে পড়ে না। বনে ফুলের সংখ্যাও কম দেখা গেছে। যা দু-একটি চাক পাওয়া গেছে তা আকারে খুবই ছোট। এসব চাক ভেঙে কোনোটিতে ২০০গ্রাম, আবার কোনোটিতে ৫০০ গ্রাম মধু পেয়েছি। এতে আমাদের চালান ওঠেনি।

ধীরে ধীরে মধু ও মৌমাছি কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিজ্ঞ এই মৌয়ালরা জানান, সুন্দরবনে বিষ দিয়ে অহরহ মাছ ধরা হচ্ছে। বিষক্রিয়ায় বনের মাটি-পানি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। আর মৌমাছিরা নদীর চরের কাদা মাটি দিয়ে প্রথমে তাদের বাসা (চাক) তৈরির সূচনা করে। মাটি সংগ্রহ করার সময় বিষে মৌমাছি মরছে। তাছাড়া দিন দিন বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে। সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় গাছে ফুল ধরছে না। যা হচ্ছে তাও শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে। এসব কারণে মধুর এমন বিপর্যয় বলে তারা মনে করছেন।

শরণখোলার মধু ব্যবসায়ী মো. রাসেল আহমেদ, রিপন বয়াতী, ইমাম হোসেন, ইউনুচ হাওলাদার জানান, স্থানীয়ভাবে বড় পাইকার হিসেবে তারা সরাসরি মৌয়ালদের কাছ থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহ করেন। এছাড়া বন এলাকায় ছোটবড় ১২ থেকে ১৫ জন পাইকার রয়েছেন।

তাদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে সুন্দরবনের মধুর উৎপাদন একটা স্থিতাবস্থায় রয়েছে। বাড়ছেনা বরং কমছে। কিন্তু চাহিদা বাড়ছে অস্বাভাবিক।

মধু ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে মধু বিক্রি হচ্ছে। এখন অনলাইনে ঘরে বসেই মধুর অর্ডার নিচ্ছেন তারা। তাছাড়া, দারাজ এবং সুন্দরবন পিওর হানিসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমেও দেশ-বিদেশে সুন্দরবেনর খাঁটি মধু পৌছে যাচ্ছে। এছাড়া, শান্তিনগরে খুলনা মধু ঘর, খীলক্ষেতে আজওয়া, মহম্মাদপুরে লালশালুসহ ঢাকার বিভিন্ন সুপার শপে সুন্দরবনের এই খাঁটি মধু সরবরাহ করছেন তারা।

তারা আরো জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক মধুর বাজার প্রসারিত হওয়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বাড়ছে। মৌয়ালদের কাছ থেকে অপরিশোধিত এক মণ মধু ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। এই মধুর পোলেম (গাদ) মোম ও ছাই অপসারণ করে বাজাজাত করেত গিয়ে কেজিতে ১৫০ গ্রাম থেকে ২০০ গ্রাম ঘাটতি হয়। ঘাটতি ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এখন এক কেজি মধু খুচরা বাজারে ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) শহিদুল ইসলাম চারিদিককে বলেন, এ বছর ১ জুন থেকে সুন্দরবনের মাছের প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ায় ১৪ মে থেকে সব ধরণের পাসপারমিট বন্ধ করা হয়েছে। এ কারণে তিন মাসের মধুর মৌসুমের দেড় মাসই আহরণ সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে ফুল কম হওয়ায় মধু ও মৌমাছি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষক্রিয়া বা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকলে সেটা বিশেষজ্ঞদের গবেষণা ছাড়া বলা মুশকিল।

এসিএফ জানান, এ বছর ১ হাজার ৫০ কুইন্টাল মধু এবং ৩৫০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্য নিয়ে শরণখোলা, চাঁদপাই, ঢাংমারী, জিউধরাসহ চারটি স্টেশন থেকে মধু আহরণের পাস দেওয়া হয়েছিল। ১৫ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ করার কথা। কিন্তু মাছের প্রজননের কারণে মাঝপথে পাস বন্ধ হওয়ায় ৬৫৪ কুইন্টার মধু ও ১৯৬ কুইন্টাল মোম আহরণ হয়েছে। পুরো মৌসুম পেলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হতো।

Related Posts