শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, বিকাল ৫:৩৩
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,বিকাল ৫:৩৩

দেড় মাসেও প্রেপ্তার হয়নি জোড়া খুনের জড়িতরা

১৯ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৫:৫৪ pm

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গেল ঈদুল ফিতরের দিনে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত আসামিরা দেড় মাসেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় মানববন্ধন করেছে গ্রামবাসী।

আজ রোববার সকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলপাড়া বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতদের পরিবার ও গ্রামবাসী ছাড়াও স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

জানা যায়, ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় গোহাইলবাড়ি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদের (৯৪) সাথে গোহাইলবাড়ি গ্রামের সাবেক কৃষি কর্মকর্তা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান ওরফে বজলু খালাসির এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় গোহাইলবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে আলাউদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকী ও বজলুর রহমান ওরফে বজলু খালাসির ছেলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের দুই প্যানেলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোস্তাফার প্যানেল বিজয়ী হয়ে পুনরায় তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

ঈদুল ফিতরের দিন (৩ মে) দুপুরের দিকে মোস্তফা জামানসহ নিহত-আহতরা গোহাইলবাড়ি বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে চা খাচ্ছিলো। এ সময় আসামিরা হতাহতদের উপর রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোস্তফার চাচাতো ভাই আকিদুল মোল্যা (৪৫), খায়রুল শেখ (৪৭) দিবালোকে হত্যা করে। এ ঘটনায় মোস্তফার আপন দুইভাই শারিরীক প্রতিবন্ধী মাসুদ আহমেদ (৪৭) ও আলমগীর আহমেদসহ (৫০) ৮ জন আহত হয়।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচদিন পর থানায় নিহতদের চাচাতো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জামান সিদ্দিকী বাদি হয়ে ৮১ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, পূর্ব শক্রতার জের ধরে স্থানীয় আরিফ গংরা ঈদের দিন দিবালোকে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি। তারা জড়িতদের ফাসির দাবি জানান।

মানবন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৮১ জনকে আসামি করে বোয়ালমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়রা পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও কোন আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত আকিদুলের বয়োবৃদ্ধ মা শাহিদা বেগম (৬৭) বলেন, আকিদুলের ২ বছর থেকে ১২ বছর বয়সি পাঁচটি শিশু সন্তান রয়েছে। গ্রামে মৌসুমী ফলের ব্যবসা করতেন আকিদুল। নাতীদের নিয়ে তিনি খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন না তিনি। দুই বছর বয়সী কন্যা সন্তান জন্মের সময় আকিদুলের স্ত্রী মারা যায়। খুনিরা তার ছেলেটিকেও মেরে ফেলেছে। তার ছেলের ছোট ছোট পাঁচটি এতিম সন্তান নিয়ে তিনি বেকায়দায় পড়েছেন। খুনিদের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এ মামলায় ৬১ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়েছেন। উচ্চ আদালত তাদের নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দায়েরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Related Posts

দেড় মাসেও প্রেপ্তার হয়নি জোড়া খুনের জড়িতরা

১৯ জুন, ২০২২,

৫:৫৪ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গেল ঈদুল ফিতরের দিনে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত আসামিরা দেড় মাসেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় মানববন্ধন করেছে গ্রামবাসী।

আজ রোববার সকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের গোহাইলপাড়া বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহতদের পরিবার ও গ্রামবাসী ছাড়াও স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

জানা যায়, ঘোষপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের স্থানীয় গোহাইলবাড়ি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আহমেদের (৯৪) সাথে গোহাইলবাড়ি গ্রামের সাবেক কৃষি কর্মকর্তা প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান ওরফে বজলু খালাসির এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। গত ১৬ এপ্রিল স্থানীয় গোহাইলবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে আলাউদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তফা জামান সিদ্দিকী ও বজলুর রহমান ওরফে বজলু খালাসির ছেলে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের দুই প্যানেলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোস্তাফার প্যানেল বিজয়ী হয়ে পুনরায় তিনি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

ঈদুল ফিতরের দিন (৩ মে) দুপুরের দিকে মোস্তফা জামানসহ নিহত-আহতরা গোহাইলবাড়ি বাজারের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে চা খাচ্ছিলো। এ সময় আসামিরা হতাহতদের উপর রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে মোস্তফার চাচাতো ভাই আকিদুল মোল্যা (৪৫), খায়রুল শেখ (৪৭) দিবালোকে হত্যা করে। এ ঘটনায় মোস্তফার আপন দুইভাই শারিরীক প্রতিবন্ধী মাসুদ আহমেদ (৪৭) ও আলমগীর আহমেদসহ (৫০) ৮ জন আহত হয়।

হত্যাকাণ্ডের পাঁচদিন পর থানায় নিহতদের চাচাতো ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জামান সিদ্দিকী বাদি হয়ে ৮১ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, পূর্ব শক্রতার জের ধরে স্থানীয় আরিফ গংরা ঈদের দিন দিবালোকে দুইজনকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি। তারা জড়িতদের ফাসির দাবি জানান।

মানবন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৮১ জনকে আসামি করে বোয়ালমারী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয়রা পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলেও কোন আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত আকিদুলের বয়োবৃদ্ধ মা শাহিদা বেগম (৬৭) বলেন, আকিদুলের ২ বছর থেকে ১২ বছর বয়সি পাঁচটি শিশু সন্তান রয়েছে। গ্রামে মৌসুমী ফলের ব্যবসা করতেন আকিদুল। নাতীদের নিয়ে তিনি খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন না তিনি। দুই বছর বয়সী কন্যা সন্তান জন্মের সময় আকিদুলের স্ত্রী মারা যায়। খুনিরা তার ছেলেটিকেও মেরে ফেলেছে। তার ছেলের ছোট ছোট পাঁচটি এতিম সন্তান নিয়ে তিনি বেকায়দায় পড়েছেন। খুনিদের গ্রেপ্তার ও উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব বলেন, এ মামলায় ৬১ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়েছেন। উচ্চ আদালত তাদের নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দায়েরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Related Posts