রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, সকাল ৮:২৯
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২,সকাল ৮:২৯

বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় বিষপান, প্রাণ গেল প্রেমিকার

১৮ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৭:১৩ pm

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলীতে দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক শেষে সুজন ও তামান্নার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পরে প্রেমিকার দরিদ্র মা বিদেশে থাকে তাই ছেলের খালার আপত্তিতে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। এ অভিমান বিষপানের ৬ দিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন প্রেমিকা তানান্না (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রী।

উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

তামান্না ওই গ্রামের বাচ্চু মোল্লার একমাত্র মেয়ে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাচ্চু মোল্লার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তামান্নার সাথে একই উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের মোখলেছুর রহমান হাওলাদারের ছেলে সুজন হাওলাদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুজন পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী। আমতলী হাসপাতালে সড়কে তার খালু কালাম মুছল্লীর সাথে তার যৌথ ফলের ব্যবসা রয়েছে। দোকানে থাকার সুবাদেই তামান্নার সাথে সুজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কলেজ ছাত্রী তামান্নার বাবা পেশায় একজন কৃষক। মা নেহার বেগম সৌদি আবর প্রবাসী। সুজনের মা না থাকায় খালা-খালুই অভিভাবক হিসেবে তার সকল দায়িত্ব পালন করে আসছে।সুজন এবং তামান্নার প্রেমের সম্পর্কের কথা উভয় পরিবার জানতে পেরে শুক্রবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় তামান্নাদের বাড়িতে বসে দুই পরিবারের সিন্ধান্ত মতে বিয়ে সম্পন্নের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়।

এর মধ্যে সুজনের খালা মাহফুজা বেগম জানতে পারেন, তান্নানার পরিবার দরিদ্র এবং মা নেহার বেগমে সৌদি আবর প্রবাসী। ওই অজুহাতে তিনি ওই বিয়েতে বাঁধ সাধেন। কোন অবস্থাতেই তার বোনের ছেলে সুজনের সাথে তামান্নার বিয়ে দিতে রাজি নন মাহফুজা। সুজনের খালার কারণে ভেঙ্গে যায় এ বিয়ে।

ওই খবর তামান্নার নিকট পৌঁছানোর পর সে দুই দিন ধরে খাওয়া বন্ধ করে দেন। সুজন বিয়ের সব ব্যবস্থা করবেন বলে তামান্নাকে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সুজন বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এরপর গত সোমবার (১৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে ঘরে থাকা পোকা মারার বিষপান করে তামান্না। বিষপানে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাৎক্ষনিক স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। এরপর তার অবস্থা সংকটপন্ন হলে ওই দিন দুপুরেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্ভি করা হয়। সেখানে ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরে আজ শনিবার সকাল ৮টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তামান্না।

তামান্নার বাবা বাচ্চু মোল্লা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মোর মাইয়াডারে বিয়ার আশ্বাস দিয়া সব শ্যাষ কইর‌্যা দিছে সুজন। শুক্রবার বিয়ার তারিখ দিয়াও সুজনের খালা মাহফুজা বেগম মোরা গরিব বইল্যা এবং মাইয়ার মায় বিদেশে থাহে হেই লইগ্যা বিয়া ভাইঙ্গা দেয়। খবর পাইয়া মোর মাইয়া বিষ খায়।’

সুজনের খালা মাহফুজা বেগম জানান, ‘বিয়ার তারিখ অইছিল। মাইয়ার বাবা মা গরিব তাই আমরা বিয়া করাতে রাজি ছিলাম না। মেয়ে কি কারণে বিষ খাইছে হেইয়া আমাগো জানা নাই।’

সুজনের খালু কালাম মুছল্লী জানান, ‘বিয়ার তারিখ অইছিল। মোগো লগে কথায় মেলে নাই। হেই লইগ্যা বিয়া অয় নাই।’

প্রেমিক সুজন বলেন, শুক্রবার বিয়ার তারিখ নির্ধারন করা হয়েছিল। তবে কি কারনে তামান্না বিষপান করেছে তা আমার জানা নেই।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সুজন এবং তামান্নার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানতে পারি। তাদের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। এর মধ্যে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় তামান্না বিষপান করে চিসিাধীন অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মারা যায়। সেখানে তার ময়না তদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। এবিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #

হায়াতুজ্জামানর মিরাজ
আমতলী, বরগুনা।
০১৭১২৮৫৬৪৭২

Related Posts

বিয়ে ভেঙে যাওয়ায় বিষপান, প্রাণ গেল প্রেমিকার

১৮ জুন, ২০২২,

৭:১৩ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) : বরগুনার আমতলীতে দেড় বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক শেষে সুজন ও তামান্নার বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হওয়ার পরে প্রেমিকার দরিদ্র মা বিদেশে থাকে তাই ছেলের খালার আপত্তিতে বিয়ে ভেঙ্গে যায়। এ অভিমান বিষপানের ৬ দিন পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন প্রেমিকা তানান্না (১৭) নামের এক কলেজ ছাত্রী।

উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

তামান্না ওই গ্রামের বাচ্চু মোল্লার একমাত্র মেয়ে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের বাচ্চু মোল্লার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে তামান্নার সাথে একই উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামের মোখলেছুর রহমান হাওলাদারের ছেলে সুজন হাওলাদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সুজন পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী। আমতলী হাসপাতালে সড়কে তার খালু কালাম মুছল্লীর সাথে তার যৌথ ফলের ব্যবসা রয়েছে। দোকানে থাকার সুবাদেই তামান্নার সাথে সুজনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

কলেজ ছাত্রী তামান্নার বাবা পেশায় একজন কৃষক। মা নেহার বেগম সৌদি আবর প্রবাসী। সুজনের মা না থাকায় খালা-খালুই অভিভাবক হিসেবে তার সকল দায়িত্ব পালন করে আসছে।সুজন এবং তামান্নার প্রেমের সম্পর্কের কথা উভয় পরিবার জানতে পেরে শুক্রবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় তামান্নাদের বাড়িতে বসে দুই পরিবারের সিন্ধান্ত মতে বিয়ে সম্পন্নের দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়।

এর মধ্যে সুজনের খালা মাহফুজা বেগম জানতে পারেন, তান্নানার পরিবার দরিদ্র এবং মা নেহার বেগমে সৌদি আবর প্রবাসী। ওই অজুহাতে তিনি ওই বিয়েতে বাঁধ সাধেন। কোন অবস্থাতেই তার বোনের ছেলে সুজনের সাথে তামান্নার বিয়ে দিতে রাজি নন মাহফুজা। সুজনের খালার কারণে ভেঙ্গে যায় এ বিয়ে।

ওই খবর তামান্নার নিকট পৌঁছানোর পর সে দুই দিন ধরে খাওয়া বন্ধ করে দেন। সুজন বিয়ের সব ব্যবস্থা করবেন বলে তামান্নাকে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সুজন বিয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি। এরপর গত সোমবার (১৩ জুন) সকাল ৮টার দিকে ঘরে থাকা পোকা মারার বিষপান করে তামান্না। বিষপানে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরলে তাৎক্ষনিক স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। এরপর তার অবস্থা সংকটপন্ন হলে ওই দিন দুপুরেই তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্ভি করা হয়। সেখানে ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লরে আজ শনিবার সকাল ৮টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তামান্না।

তামান্নার বাবা বাচ্চু মোল্লা কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘মোর মাইয়াডারে বিয়ার আশ্বাস দিয়া সব শ্যাষ কইর‌্যা দিছে সুজন। শুক্রবার বিয়ার তারিখ দিয়াও সুজনের খালা মাহফুজা বেগম মোরা গরিব বইল্যা এবং মাইয়ার মায় বিদেশে থাহে হেই লইগ্যা বিয়া ভাইঙ্গা দেয়। খবর পাইয়া মোর মাইয়া বিষ খায়।’

সুজনের খালা মাহফুজা বেগম জানান, ‘বিয়ার তারিখ অইছিল। মাইয়ার বাবা মা গরিব তাই আমরা বিয়া করাতে রাজি ছিলাম না। মেয়ে কি কারণে বিষ খাইছে হেইয়া আমাগো জানা নাই।’

সুজনের খালু কালাম মুছল্লী জানান, ‘বিয়ার তারিখ অইছিল। মোগো লগে কথায় মেলে নাই। হেই লইগ্যা বিয়া অয় নাই।’

প্রেমিক সুজন বলেন, শুক্রবার বিয়ার তারিখ নির্ধারন করা হয়েছিল। তবে কি কারনে তামান্না বিষপান করেছে তা আমার জানা নেই।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সুজন এবং তামান্নার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানতে পারি। তাদের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। এর মধ্যে বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় তামান্না বিষপান করে চিসিাধীন অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মারা যায়। সেখানে তার ময়না তদন্তও সম্পন্ন হয়েছে। এবিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #

হায়াতুজ্জামানর মিরাজ
আমতলী, বরগুনা।
০১৭১২৮৫৬৪৭২

Related Posts