শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, রাত ৯:০০
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,রাত ৯:০০

মাঝপথে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, ফেরত গেল গরীবের সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা!

১৬ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে ফেরত গেছে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের (ইজিপিপি) দ্বিতীয় পর্যায়ের সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়ে সময়ক্ষেপন করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব যায়নি। ৪০দিনের কাজ মাঝ পথে এসে শেষ হয় প্রকল্পের মেয়াদ।অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দের চিঠি শরণখোলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে আসে ৫ মে। এর পর ১০ মে থেকে কাজ শুরু হয়ে চলে ৮ জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ তার আগেই ৬ জুন শেষ হয়ে যাওয়ায় ২১ দিনের মাথায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।ফলে কাজ না হওয়া পরবর্তী ১৯ দিনের দরিদ্র শ্রমিকের টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

এদিকে, মাঝ পথে এসে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রকল্পে নিয়োজিত উপকূলীয় এই উপজেলা চারটি ইউনিয়নের সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিক। তারা কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের নামে বরাদ্দের টাকা যাতে ফেরত না যায় সে ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের ৭২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ৪০ দিনের কাজের জন্য উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মোট ৪৫৩ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির নামের বরাদ্দ আসে এই টাকা। এর পর ১০ মে থেকে শুরু হয় কাজ। সরকারি ছুটি বাদে ৮ জুন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ২১দিনের। দৈনিক ৪০০টাকা মজুরি পাবেন একেকজন শ্রমিক। কিন্তু কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ৬ জুন। এ অবস্থায় বাকি ১৯ দিনের কাজ না হওয়ায় ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত চলে যাচ্ছে!
প্রকল্পে নিয়োজিত হতদরিদ্র শ্রমিক উপজেলার খাদা গ্রামের খলিল হাওলাদার, জাফর হাওলাদার, লাল মিয়া জোমাদ্দরনহ অনেকেই জানান, এমনিতেই এ মৌসুমে এলাকায় তেমন একটা কাজ থাকে না। তাছাড়া দ্রব্যমূল্যেরও উর্ধ্বগতি। সরকারে এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক উপকার হয়েছে গরীব মানুষের। ৪০ দিন কাজ করতে পারলে তারা আরো উপকৃত হতেন। তাদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা যাতে ফেরত না যায় সেজন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন এসব হতদরিদ্র মানুষ।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমার এলাকায় দরিদ্র ও জেলে পরিবারের সংখ্যা বেশী। বর্তমানে সুন্দরবন ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ। মাছ ধরতে না পাারায় অনেক জেলে পরিবারে হাহাকার চলছে। এই মুহুর্তে ৪০দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া আরো হতাশায় পড়েছেন তারা।
খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এক মাস আগে বরাদ্দ আসলে আমাদের দরিদ্র মানুষের এতো টাকা ফেরত দিতে হতো না। উপর মহলের গাফিলতির কারণে খেটে খাওয়া শত শত মানুষ আজ ক্ষতিরমুখে পড়লো।
শরণখোলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আব্দুল আলিমের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে আমাদের এখানে বিলম্বে বরাদ্দ এসেছে। তাছাড়া ৬জুন মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং ৮ জুনের মধ্যে বিল না পাঠালে শ্রমিকরা যে কাজ করেছে তার টাকাও পাবে না। যে কারণে বাকি ১৯ দিনের কাজ না করিয়ে ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। আমাদের এখানে কিছুই করার নেই।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।’

 

Related Posts

মাঝপথে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, ফেরত গেল গরীবের সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা!

১৬ জুন, ২০২২,

২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলা থেকে ফেরত গেছে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের (ইজিপিপি) দ্বিতীয় পর্যায়ের সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড়ে সময়ক্ষেপন করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব যায়নি। ৪০দিনের কাজ মাঝ পথে এসে শেষ হয় প্রকল্পের মেয়াদ।অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দের চিঠি শরণখোলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে আসে ৫ মে। এর পর ১০ মে থেকে কাজ শুরু হয়ে চলে ৮ জুন পর্যন্ত। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ তার আগেই ৬ জুন শেষ হয়ে যাওয়ায় ২১ দিনের মাথায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়।ফলে কাজ না হওয়া পরবর্তী ১৯ দিনের দরিদ্র শ্রমিকের টাকা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।

এদিকে, মাঝ পথে এসে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন প্রকল্পে নিয়োজিত উপকূলীয় এই উপজেলা চারটি ইউনিয়নের সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিক। তারা কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের নামে বরাদ্দের টাকা যাতে ফেরত না যায় সে ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের ৭২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। ৪০ দিনের কাজের জন্য উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মোট ৪৫৩ জন হতদরিদ্র ব্যক্তির নামের বরাদ্দ আসে এই টাকা। এর পর ১০ মে থেকে শুরু হয় কাজ। সরকারি ছুটি বাদে ৮ জুন পর্যন্ত কাজ হয়েছে ২১দিনের। দৈনিক ৪০০টাকা মজুরি পাবেন একেকজন শ্রমিক। কিন্তু কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে ৬ জুন। এ অবস্থায় বাকি ১৯ দিনের কাজ না হওয়ায় ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত চলে যাচ্ছে!
প্রকল্পে নিয়োজিত হতদরিদ্র শ্রমিক উপজেলার খাদা গ্রামের খলিল হাওলাদার, জাফর হাওলাদার, লাল মিয়া জোমাদ্দরনহ অনেকেই জানান, এমনিতেই এ মৌসুমে এলাকায় তেমন একটা কাজ থাকে না। তাছাড়া দ্রব্যমূল্যেরও উর্ধ্বগতি। সরকারে এই প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক উপকার হয়েছে গরীব মানুষের। ৪০ দিন কাজ করতে পারলে তারা আরো উপকৃত হতেন। তাদের নামে বরাদ্দকৃত টাকা যাতে ফেরত না যায় সেজন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন এসব হতদরিদ্র মানুষ।
সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমার এলাকায় দরিদ্র ও জেলে পরিবারের সংখ্যা বেশী। বর্তমানে সুন্দরবন ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ। মাছ ধরতে না পাারায় অনেক জেলে পরিবারে হাহাকার চলছে। এই মুহুর্তে ৪০দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া আরো হতাশায় পড়েছেন তারা।
খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এক মাস আগে বরাদ্দ আসলে আমাদের দরিদ্র মানুষের এতো টাকা ফেরত দিতে হতো না। উপর মহলের গাফিলতির কারণে খেটে খাওয়া শত শত মানুষ আজ ক্ষতিরমুখে পড়লো।
শরণখোলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আব্দুল আলিমের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে আমাদের এখানে বিলম্বে বরাদ্দ এসেছে। তাছাড়া ৬জুন মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং ৮ জুনের মধ্যে বিল না পাঠালে শ্রমিকরা যে কাজ করেছে তার টাকাও পাবে না। যে কারণে বাকি ১৯ দিনের কাজ না করিয়ে ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টাকা ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। আমাদের এখানে কিছুই করার নেই।

এ ব্যাপারে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নূর-ই আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।’

 

Related Posts