শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, রাত ১১:০৩
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,রাত ১১:০৩

ভাঙ্গন আতঙ্কে ৬ গ্রামের মানুষের ঘুম হারাম

১৪ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

৯:৪৫ pm

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) :
বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলা উপড় দিয়ে বয়ে যাওয়া পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বসতবাড়িসহ কৃষি জমি হারোনোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার ৬ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত বাঁধ নির্মানের দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাঙ্গনে দুটি অংশের প্রায় ২০০ মিটার ইতোমধ্যে পায়রা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পায়রার ভাঙ্গনের এ অবস্থা দেখে গ্রামবাসীর চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এই গ্রামের পাশেই রয়েছে সোবাহান পাড়া, অংকুজানপাড়া, জয়ালভাঙ্গা গ্রাম। ভাঙ্গনের আতঙ্কে এই গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

গত দুই দশক ধরে ভয়ঙ্কর পায়রা (বুড়িশ্বর) তালতলী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া এবং জয়ালভাঙ্গা ও আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী এবং বৈঠাকাটা গ্রামের হাজার হাজার একর ফসলি জমি এবং ঘরবাড়ি গ্রাস করেছে। ভাঙ্গনে সব হারিয়ে অনেকে গ্রামবাসী বাস্তচ্যুত হয়ে ঢাকা কিংবা বরিশালের বস্তিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। নতুন করে বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের সোবাহানপাড়া, অংকুজানপাড়া, জয়ালভাঙ্গা ও তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ভাঙ্গন আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ ছয়জদ্দিন গাজী আক্ষেপের সুরে বলেন, বাবা মোগো গ্রাম পানিতে লইয়া গ্যালে মোরা কুম্মে থাকমু, কই যামু।

জেলে ছলেমান বলেন, খালে খালি ভাইঙ্গা মোগো সব শ্যাষ কইর‌্যা দেছে। জায়গা জমি যেডু আছে হ্যা সব ভাইঙ্গা গ্যালে পোলা মাইয়া লইয়া কোন হানে যামু এহন হেই চিন্তায় আছি।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তেতুলবাড়িয়া গ্রামের এমাদুল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ৩ বিঘা জমি ছিল। ছিল বড় বাড়ি। ৬ বারের ভাঙনে সব নদীতে লইয়া গ্যাছে। ভাঙনে সব বিলীন হওয়ায় এখন ১ শতাংশ ফসলের জমিও নেই। কোনোমতে রাস্তার ধারে একটা ঘর বানাইয়া পোলা মাইয়া লইয়া থাহি। হেও আবার এ্যাহন ভয়ের মধ্যে আছি ভাঙনে আবার ঘরডা লইয়া যায় কিনা।

এদিকে, আমতলীর উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী গ্রামের প্রায় ৫০০ মিটার বাঁধ পায়রার ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সিডর, আইলাসহ একাধিক দুর্যোগে ভাঙ্গনে বালিয়াতলী গ্রামটি বিলীনের পথে। এখানে বসবাসরত শত শত বাসিন্দারা তাদের বসত বাড়িসহ কৃষিজমি হারিয়ে এখন নিঃশ্ব হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। একই অবস্থা চাওরা ইউনিয়নের বৈঠাকাটা গ্রামেরও। এই গ্রামটিও একাধিক বার পায়রার ভাঙ্গনে শত শত গ্রামবাসী জমি হারিয়ে এখন পথের ফকির হয়ে গেছে।

সর্বশেষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে একটি রিংবাঁধ নির্মান করলেও তাও এখন হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় স্থায়ীভাবে ভাঙ্গনরোধে ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড তালতলীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিমেল আহম্মেদ জানান, তেতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গা গ্রামের ভাঙ্গন রোধে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল তা কাজে আসছে না।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এবং তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমতলীর বৈঠাকাটা ও বালিয়াতলী গ্রামের ভাঙ্গন রোধে ব্লক নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে।

Related Posts

ভাঙ্গন আতঙ্কে ৬ গ্রামের মানুষের ঘুম হারাম

১৪ জুন, ২০২২,

৯:৪৫ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) :
বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলা উপড় দিয়ে বয়ে যাওয়া পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বসতবাড়িসহ কৃষি জমি হারোনোর ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে দুই উপজেলার ৬ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত বাঁধ নির্মানের দাবি জানিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আকস্মিক ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাঙ্গনে দুটি অংশের প্রায় ২০০ মিটার ইতোমধ্যে পায়রা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পায়রার ভাঙ্গনের এ অবস্থা দেখে গ্রামবাসীর চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। এই গ্রামের পাশেই রয়েছে সোবাহান পাড়া, অংকুজানপাড়া, জয়ালভাঙ্গা গ্রাম। ভাঙ্গনের আতঙ্কে এই গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দারা নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

গত দুই দশক ধরে ভয়ঙ্কর পায়রা (বুড়িশ্বর) তালতলী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া এবং জয়ালভাঙ্গা ও আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী এবং বৈঠাকাটা গ্রামের হাজার হাজার একর ফসলি জমি এবং ঘরবাড়ি গ্রাস করেছে। ভাঙ্গনে সব হারিয়ে অনেকে গ্রামবাসী বাস্তচ্যুত হয়ে ঢাকা কিংবা বরিশালের বস্তিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। নতুন করে বাঁধে ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের সোবাহানপাড়া, অংকুজানপাড়া, জয়ালভাঙ্গা ও তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ১০ হাজার মানুষের মধ্যে ভাঙ্গন আতঙ্ক শুরু হয়েছে।

তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ ছয়জদ্দিন গাজী আক্ষেপের সুরে বলেন, বাবা মোগো গ্রাম পানিতে লইয়া গ্যালে মোরা কুম্মে থাকমু, কই যামু।

জেলে ছলেমান বলেন, খালে খালি ভাইঙ্গা মোগো সব শ্যাষ কইর‌্যা দেছে। জায়গা জমি যেডু আছে হ্যা সব ভাইঙ্গা গ্যালে পোলা মাইয়া লইয়া কোন হানে যামু এহন হেই চিন্তায় আছি।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তেতুলবাড়িয়া গ্রামের এমাদুল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ৩ বিঘা জমি ছিল। ছিল বড় বাড়ি। ৬ বারের ভাঙনে সব নদীতে লইয়া গ্যাছে। ভাঙনে সব বিলীন হওয়ায় এখন ১ শতাংশ ফসলের জমিও নেই। কোনোমতে রাস্তার ধারে একটা ঘর বানাইয়া পোলা মাইয়া লইয়া থাহি। হেও আবার এ্যাহন ভয়ের মধ্যে আছি ভাঙনে আবার ঘরডা লইয়া যায় কিনা।

এদিকে, আমতলীর উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী গ্রামের প্রায় ৫০০ মিটার বাঁধ পায়রার ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সিডর, আইলাসহ একাধিক দুর্যোগে ভাঙ্গনে বালিয়াতলী গ্রামটি বিলীনের পথে। এখানে বসবাসরত শত শত বাসিন্দারা তাদের বসত বাড়িসহ কৃষিজমি হারিয়ে এখন নিঃশ্ব হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। একই অবস্থা চাওরা ইউনিয়নের বৈঠাকাটা গ্রামেরও। এই গ্রামটিও একাধিক বার পায়রার ভাঙ্গনে শত শত গ্রামবাসী জমি হারিয়ে এখন পথের ফকির হয়ে গেছে।

সর্বশেষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে একটি রিংবাঁধ নির্মান করলেও তাও এখন হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় স্থায়ীভাবে ভাঙ্গনরোধে ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড তালতলীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিমেল আহম্মেদ জানান, তেতুলবাড়িয়া ও জয়ালভাঙ্গা গ্রামের ভাঙ্গন রোধে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল তা কাজে আসছে না।

বরগুনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এবং তেতুলবাড়িয়া গ্রামের ভাঙ্গনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমতলীর বৈঠাকাটা ও বালিয়াতলী গ্রামের ভাঙ্গন রোধে ব্লক নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে।

Related Posts