শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২, রাত ৯:২৩
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২,রাত ৯:২৩

পদ্মা সেতু চালুর পর যতটা প্রস্তুত মোংলা বন্দর

৯ জুন, ২০২২,

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

১০:১৩ pm

এম এ মোতালেব : সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হবে। ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে মোংলা বন্দরের দূরত্ব অনেক কমে আসবে। এ কারণে চট্রগ্রাম বন্দরের চেয়েও ব্যবসায়ীদের চাপ বাড়বে এ বন্দরে বেশি। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করে সেই সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে ব্যবসায়ীরা কতটা সুবিধা পাবেন এ নিয়ে রয়েছে নানা মত।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হলে ব্যবসায়ী সুবিধার্থে তারা মোংলা বন্দরের দিকে ঝুঁকবেন। কিন্তু এখনও অনেকভাবেই তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। আর তা হচ্ছে সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বন্দর জেটির নাব্য সংকট।

মোংলা বন্দর বার্থ-শিপ অপারেটর এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা ও চট্রগাম থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক কমে যাবে। যার ফলে ঢাকার আশপাশে যে শিল্প কারখানা আছে সেসব কারখানার পণ্য মোংলা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি শুরু হবে। এ কারণে এই বন্দরের কর্মব্যস্ততা অনেকগুণে বেড়ে যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সেটা হলো-বন্দর জেটিতে নাব্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে বন্দর জেটিতে ৭ মিটার নাব্যতা আছে। প্রয়োজন সাড়ে ৯ মিটারের নাব্যতা। তাই দ্রুত নাব্যতা নূন্যতম ৮ মিটারে উন্নত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি জাহাজ মালিকরা যখন এ বন্দরে জাহাজ পাঠায় তখন তারা একটা লাভ-ক্ষতির হিসাব করেন। সেক্ষেত্রে এখান থেকে জাহাজে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হবে তাতে তারা লাভজনক হবেনা। অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। তাই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর মোংলা বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ পন্য রপ্তানি হবে তার জন্য নাব্যতা বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প নেই।’

খুলনা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজ’র সহসভাপতি মোস্তফা জেসান ভূট্রো বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর এ অঞ্চলে যে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে সরকারের ওপরের মহলে দৃষ্টি রেখে বলবো, প্রথমত ফরিপুরের ভাঙ্গা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত দুই লেনের রাস্তা। ব্যবসায়ীরা যখন এই বন্দরে ছুটে আসবে তখনই সড়কে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটাকে ছয়লেনে উন্নীত করতে হবে। কারণ সেতু চালুর পর সড়কে গাড়ির চাপ বাড়বে। তাই টেকসই রোড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, এখানে ইপিজেড় ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য এখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পাঁচতারকা মানের হোটেল করতে হবে বলে জানান মোস্তফা জেসান ভূট্রো।

ব্যবসায়ীদের এসব দাবির সাথে একমত পোষণ করে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘সবকিছুই যথা সময়ের মধ্যে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে এই বন্দরে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরেকটা বড় প্রকল্প মহাসড়কে ছয়লেনে উন্নীত করার কাজ বাস্তবায়ন চলছে। বন্দরের আউটাবার ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। ইনারবার ড্রেজিংয়ের (জেটি থেকে পশুর নদী) কাজও শুরু হয়েছে। বন্দরে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে এর সুফল পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কোন প্রকল্পই পিছিয়ে নেই, সবকিছুই যথা সময়ের মধ্যে করা হবে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

Related Posts

পদ্মা সেতু চালুর পর যতটা প্রস্তুত মোংলা বন্দর

৯ জুন, ২০২২,

১০:১৩ pm

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp

এম এ মোতালেব : সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৫ জুন স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হবে। ফলে রাজধানী ঢাকার সাথে মোংলা বন্দরের দূরত্ব অনেক কমে আসবে। এ কারণে চট্রগ্রাম বন্দরের চেয়েও ব্যবসায়ীদের চাপ বাড়বে এ বন্দরে বেশি। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করে সেই সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তবে ব্যবসায়ীরা কতটা সুবিধা পাবেন এ নিয়ে রয়েছে নানা মত।

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হলে ব্যবসায়ী সুবিধার্থে তারা মোংলা বন্দরের দিকে ঝুঁকবেন। কিন্তু এখনও অনেকভাবেই তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে বাধা রয়েছে। আর তা হচ্ছে সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বন্দর জেটির নাব্য সংকট।

মোংলা বন্দর বার্থ-শিপ অপারেটর এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা ও চট্রগাম থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক কমে যাবে। যার ফলে ঢাকার আশপাশে যে শিল্প কারখানা আছে সেসব কারখানার পণ্য মোংলা বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি শুরু হবে। এ কারণে এই বন্দরের কর্মব্যস্ততা অনেকগুণে বেড়ে যাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সেটা হলো-বন্দর জেটিতে নাব্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। বর্তমানে বন্দর জেটিতে ৭ মিটার নাব্যতা আছে। প্রয়োজন সাড়ে ৯ মিটারের নাব্যতা। তাই দ্রুত নাব্যতা নূন্যতম ৮ মিটারে উন্নত করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশি জাহাজ মালিকরা যখন এ বন্দরে জাহাজ পাঠায় তখন তারা একটা লাভ-ক্ষতির হিসাব করেন। সেক্ষেত্রে এখান থেকে জাহাজে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হবে তাতে তারা লাভজনক হবেনা। অনাগ্রহ প্রকাশ করবে। তাই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর মোংলা বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ পন্য রপ্তানি হবে তার জন্য নাব্যতা বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প নেই।’

খুলনা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রিজ’র সহসভাপতি মোস্তফা জেসান ভূট্রো বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর এ অঞ্চলে যে কর্মচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবে সরকারের ওপরের মহলে দৃষ্টি রেখে বলবো, প্রথমত ফরিপুরের ভাঙ্গা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত দুই লেনের রাস্তা। ব্যবসায়ীরা যখন এই বন্দরে ছুটে আসবে তখনই সড়কে এমন যোগাযোগ ব্যবস্থা দেখে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এটাকে ছয়লেনে উন্নীত করতে হবে। কারণ সেতু চালুর পর সড়কে গাড়ির চাপ বাড়বে। তাই টেকসই রোড ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, এখানে ইপিজেড় ও অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য এখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পাঁচতারকা মানের হোটেল করতে হবে বলে জানান মোস্তফা জেসান ভূট্রো।

ব্যবসায়ীদের এসব দাবির সাথে একমত পোষণ করে বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, ‘সবকিছুই যথা সময়ের মধ্যে করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে এরইমধ্যে এই বন্দরে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আরেকটা বড় প্রকল্প মহাসড়কে ছয়লেনে উন্নীত করার কাজ বাস্তবায়ন চলছে। বন্দরের আউটাবার ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। ইনারবার ড্রেজিংয়ের (জেটি থেকে পশুর নদী) কাজও শুরু হয়েছে। বন্দরে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে এর সুফল পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কোন প্রকল্পই পিছিয়ে নেই, সবকিছুই যথা সময়ের মধ্যে করা হবে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

Related Posts